বাংলা নববর্ষকে ঘিরে নাটোরের ঐতিহ্যবাহী রাজবাড়ী প্রাঙ্গণ যেন ফিরে পেল গ্রামীণ সংস্কৃতির চিরচেনা রূপ।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিকেলে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় জমজমাট লাঠিখেলা। উৎসবমুখর পরিবেশে আয়োজিত এ খেলায় বিভিন্ন এলাকার দক্ষ খেলোয়াড়রা অংশ নিয়ে দর্শকদের মন জয় করেন।
লাঠিখেলার প্রতিটি কৌশল, ছন্দ ও তালে তালে মুগ্ধ হয়ে উপভোগ করেন উপস্থিত দর্শনার্থীরা। ঢোলের তালে তালে খেলোয়াড়দের শক্তি ও দক্ষতার প্রদর্শনী নববর্ষ উদযাপনে ভিন্নমাত্রা যোগ করে।
নাটোর প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি প্রভাষক ফরাজ আহমেদ রফিক বাবন বলেন, “লাঠিখেলা আমাদের গ্রামীণ ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ ধরনের আয়োজন নতুন প্রজন্মকে আমাদের শেকড়ের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয় এবং সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহ বাড়ায়।”
শিক্ষক ও লেখক আব্দুল মজিদ বলেন,“লাঠিখেলা আমাদের হাজার বছরের ঐতিহ্যের এক উজ্জ্বল অংশ, যা কেবলমাত্র একটি ক্রীড়া নয়, এটি আমাদের গ্রামীণ সংস্কৃতি, সাহসিকতা ও শারীরিক দক্ষতার প্রতীক। একজন শিক্ষক হিসেবে আমি মনে করি, লাঠিখেলা শিক্ষার্থীদের মাঝে শৃঙ্খলা, আত্মনিয়ন্ত্রণ এবং দলগত চেতনা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।”
তিনি আরো বলেন, “বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর যুগে যখন তরুণ প্রজন্ম ধীরে ধীরে মাঠ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে, তখন লাঠিখেলা তাদেরকে শারীরিকভাবে সক্রিয় রাখার পাশাপাশি নিজেদের ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার একটি শক্তিশালী মাধ্যম। এর মাধ্যমে তারা কেবল আত্মরক্ষার কৌশলই শেখে না, বরং মানসিক দৃঢ়তা ও আত্মবিশ্বাসও অর্জন করে। তাই আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লাঠিখেলার মতো লোকজ খেলাধুলাকে আরও গুরুত্ব দেওয়া উচিত। এটি শুধু বিনোদন নয়, বরং জাতির সাংস্কৃতিক পরিচয় সংরক্ষণ ও নতুন প্রজন্মের মধ্যে দেশপ্রেম জাগ্রত করার একটি কার্যকর মাধ্যম।”
দর্শনার্থী কাকলী খাতুন, রানা আহমেদ ও শিউলি রানী মুখার্জি বলেন, “এ ধরনের আয়োজন সত্যিই চমৎকার। শহরের ব্যস্ত জীবনে এমন গ্রামীণ ঐতিহ্য উপভোগ করার সুযোগ খুব কমই পাওয়া যায়। আমরা খুবই আনন্দিত।”
লাঠিখেলার অন্যতম খেলোয়াড় নিজামী উদ্দিন মেম্বার বলেন, “ছোটবেলা থেকেই লাঠিখেলার সঙ্গে জড়িত। এখনো এই ঐতিহ্য ধরে রাখতে চেষ্টা করছি। সরকারের এমন উদ্যোগ আমাদের উৎসাহিত করে।”
নাটোরের জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন বলেন, “বাংলার হাজার বছরের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সংরক্ষণে জেলা প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে। নববর্ষের এই আয়োজনের মাধ্যমে আমরা আমাদের লোকজ সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে চাই। ভবিষ্যতেও এমন আয়োজন অব্যাহত থাকবে।”


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









