ময়মনসিংহের ভালুকায় দলের মধ্যে সন্ত্রাস, হানাহানি ও রক্তপাতের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বিএনপি নেতা মো. খোকা মিয়া ও তার ছেলে তোফায়েল আহমেদ রানাকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাড. রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা যায়।
বহিষ্কৃত খোকা মিয়া উপজেলা বিএনপির সদস্য ও ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু গ্রুপ সমর্থক এবং তার ছেলে তোফায়েল আহমেদ রানা ইউনিয়ন যুবদল কর্মী ও মোর্শেদ গ্রুপ সমর্থক। বহিষ্কার আদেশে বলা হয়, দলের মধ্যে সন্ত্রাস, হানাহানি ও রক্তপাতের ঘটনায় জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তাদেরকে বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদসহ সকল পর্যায়ের দলীয় পদ থেকে বহিস্কার করা হয়েছে।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) সরেজমিনে জানা যায়, স্থানীয় নারিশ ফ্যাক্টরির ঝুট ব্যবসা ও পারিবারিক বিভিন্ন বিষয়ে খোকা মিয়া ও তার ছেলে রানার মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে খোকা মিয়া বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু ও তোফায়েল আহমেদ রানা স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ মোর্শেদ আলমের পক্ষে কাজ করেন।
নির্বাচনের পূর্বে স্থানীয় নারিশ ফ্যাক্টরির ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ ছিল ছেলে রানার নিয়ন্ত্রণে। নির্বাচনের পর ওই ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে নেন রানার পিতা খোকা মিয়া। এই ব্যবসাকে কেন্দ্র করে খোকা মিয়া ও ছেলে রানার পিতা-পুত্রের মধ্যকার বিরোধ সংঘর্ষে রূপ নেয়।
দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে রবিবার (১২ এপ্রিল) নারিশ ফ্যাক্টরির সামনে রানার নিজস্ব কার্যালয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে নিজের বাবাকে লক্ষ করে গুলির অভিযোগ ওঠে ছেলে রানার বিরুদ্ধে। এতে গুরুতর আহত হয় খোকা মিয়া। এই সময় উপজেলার জারিদিয়া চৌড়াপাড়া এলাকার মৃত আব্দুল আলমের ছেলে জজ মিয়া (৪৫), ইলিয়াস আহমদ (৫০) এবং শফিকুল ইসলামের ছেলে রবিনসহ (২২) তিনজনকে আটক করে ভালুকা মডেল থানা পুলিশ।
ভালুকা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, এই ঘটনায় কোনো পক্ষ থেকে এজাহার না পাওয়ায় কোন মামলা হয়নি। আটককৃতদের সোমবার (১৩ এপ্রিল) ৫৪ ধারায় বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন চলাকালীন সময় মুহাম্মদ মোর্শেদ আলমসহ মোর্শেদ সমর্থিত উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মীকে বহিস্কার করে বিএনপি। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর ক্রমশ প্রকাশ্যে আসছে পারিবারিক এবং বাচ্চু ও মোর্শেদ গ্রুপের রাজনৈতিক বিরোধ।
মুহাম্মদ মোর্শেদ আলম বলেন, “আমি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার, গত ২৫ বছর থেকে অদ্যাবদি যেসব শিল্প প্রতিষ্ঠানের সাথে ব্যবসা করে আসছি, ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর সেসব প্রতিষ্ঠানে কোনো ধরণের মালামাল বের করতে চাইলে এমপি বাচ্চুর অনুসারী সন্ত্রাসীরা সংঘবদ্ধভাবে মিল গেইটে বাঁধা প্রদান করে আসছে।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় সংসদ সদস্য ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু বলেন, “আমি এসব ঘটনার সাথে জড়িত নই। কেউ যদি আমার নাম ভাঙ্গিয়ে কারোও ব্যবসায় বাধা ও হুমকি প্রদান করেন, তাহলে এমন কথার স্পষ্ট প্রমাণ দিতে বলবেন।”
তিনি আরোও বলেন, “আমি বা আমার পরিবারের কেউ এসব মিল-ফ্যাক্ট্ররির ঝুটের ব্যবসায় কখনো জড়িত নই।”


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









