কুষ্টিয়ায় জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। জেলার অধিকাংশ পেট্রোল পাম্প থেকে অকটেন ও পেট্রোল সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে, যার ফলে সাধারণ গ্রাহক ও পরিবহন চালকরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) কুষ্টিয়ার বিভিন্ন তেল পাম্পগুলোতে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, কুষ্টিয়া শহরের প্রধান সড়ক ও পার্শ্ববর্তী এলাকার অধিকাংশ ফিলিং স্টেশনে ‘তেল নেই’ সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে অথবা পাম্পের লাইন বন্ধ রাখা হয়েছে।
তেল নিতে আসা মোটরসাইকেল ও ছোট যানবাহনের চালকরা পাম্পগুলোর সামনে এসে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন। কুষ্টিয়া শহরের কুষ্টিয়া স্টোর, মোজাফফর ফিলিং স্টেশন, এমআরএস ফিলিং স্টেশন, রহমান ফিলিং স্টেশন, রাজ্জাক ফিলিং স্টেশনসহ অন্য পাম্পগুলোতে জ্বালানি তেল না থাকায় পাম্পের গেটগুলো রশি দিয়ে আটকে রাখা হয়েছে।
সকাল থেকে শত শত যানবাহন নিয়ে চালকরা পাম্পে ভিড় করছেন, কিন্তু তেল না পাওয়ায় তাদেরকে খালি হাতে ফিরে যেতে হচ্ছে। অনেক চালক ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও সামান্য পরিমাণ তেলও সংগ্রহ করতে পারছেন না।
পাম্প মালিকদের দাবি, ডিপো থেকে জ্বালানি তেলের সরবরাহ সময়মতো না পাওয়ায় তারা পাম্প সচল রাখতে পারছেন না। পাম্প সংশ্লিষ্টদের ভাষ্যমতে, ডিপো থেকে নিয়মিত সরবরাহ নিশ্চিত হলেই কেবল তারা পুনরায় তেল বিক্রি শুরু করতে পারবেন।
কুষ্টিয়া স্টোরের ম্যানেজার বিদ্যুৎ রহমান বলেন, জ্বালানি সরবরাহকারী বিপণন কোম্পানিগুলো থেকে চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহ না পাওয়ায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। সরকারি ছুটির সমন্বয়হীনতা এবং জ্বালানি বহনকারী গাড়ি পৌঁছাতে বিলম্ব হওয়ার কারণে মজুত শেষ হয়ে গেছে। আশা করছি আগামীকাল থেকে তেল দিতে পারবো।
তবে এই সংকটের পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কি না, তা নিয়ে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ গ্রাহকদের অভিযোগ, একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী ও পেট্রোল পাম্প মালিক কৃত্রিম সংকট তৈরি করে ফায়দা লোটার চেষ্টা করছেন। তাদের অভিযোগের তীর স্থানীয় কিছু অসাধু চক্রের দিকে, যারা এই সংকটকে পুঁজি করে পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলছে।
কুষ্টিয়া স্টোরে তেল নিতে আসা মোটরসাইকেল চালক রফিক হোসেন অভিযোগ করে বলেন, তেল নেয়ার জন্য সকাল থেকে অপেক্ষা করছি। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষায় থাকার পরেও কোনো সমাধান পাওয়া যাচ্ছে না। প্রশাসন যদি দ্রুত এই সংকট সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করে, তবে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ আরও প্রকট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রশাসনিক নজরদারি জোরদার এবং ডিপো থেকে জ্বালানি তেলের স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









