পেট্রোল কিংবা অকটেন সংগ্রহের জন্য একদিন আগে থেকেই অনেক বাইকাররা পাম্পে মোটরসাইকেল রেখে লাইন ধরছেন। কেউ বাঁশের সঙ্গে ত্রিপল বা কাপড় বেঁধে রেখেছেন, কেউ কেউ কাপড়ে ঢেকে রাখছেন মটরসাইকেলটি। এমনকি বাইকাররা পাম্পে পাম্পে রাত্রি যাপন করছেন, সেখানেই করছেন খাওয়া-দাওয়া। মোটরসাইকেলের জন্য নিয়োগ করেছেন পাহারাদার। মোটরসাইকেল চালকদের অভিযোগ, এত কষ্টের পরও তারা চাহিদা মতো পেট্রল বা অকটেন পাচ্ছেন না। ৫/৬ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পর বলা হচ্ছে তেল শেষ।
পেশায় তিনি শিক্ষক আজগর মিয়া (৫০)। বাড়ি পার্বতীপুর শহরের বাস টার্মিনাল হুগলীপাড়া মহল্লায়। তার বাড়ী থেকে তেল পাম্প থেকে দুরত্ব প্রায় আধ কিলোমিটার। বৃহস্পতিবার বিকেলে পাম্পে গিয়ে তার মোটরসাইকেলটি রেখে এসেছেন। যদি আগামীকাল শুক্রবার তেলের আসায়।
রমজান আলী (৬০) বৃহস্পতিবার বিকেলে মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন দেখছিলেন। তিনি বলেন, “জীবনেও দেখিনি তেল নিতে এত ভিড়। হলদীবাড়ী রেলগেট থেকে প্রায় ১ কিলো তেল পাম্প এবং বার্মা তেল পাম্প থেকে পল্লীবিদ্যুৎ জোনাল অফিস ছেড়ে চান্দাপাড়া এলাকা পর্যন্ত প্রায় ১ কিলো মটরসাইকেল দীর্ঘলাইন।”
মোটরসাইকেল চালকদের অভিযোগ, এত কষ্টের পরও তারা চাহিদামতো পেট্রল পাচ্ছেন না। ৫/৬ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পর বলা হচ্ছে পেট্রল শেষ। কোনো কোনো তেল পাম্পে শত শত বাইকারের অপেক্ষমান। তেল পাম্পে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
বার্মা ফিলিং স্টেশনে অপেক্ষায় থাকা মোটরসাইকেলচালক আবু নাসের মো. জুলফিকার (৫০) বলেন, আজকে তেলের জন্য বাইকটি রিয়েল তেল পাম্পে রেখে এসেছি। শুক্রবার তেল দিবে শুনেছি। এর জন্য এক পাহারাদারকে একশ টাকা দিয়েছি। অনেকের মোটরসাইকেলে পেট্রল আছে। তবু সংকটের আশঙ্কায় তারা ট্যাংকি ভরিয়ে নিচ্ছেন।
উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের বাসুপাড়া গ্রামের প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক প্রাথমিকের এক শিক্ষক নাম জানান, সকালে পেট্রল নিতে গেলে স্কুলে যাওয়া হয় না। তাই দুপুরে ছুটি নিয়ে পাম্পে পেট্রল নিতে এসেছেন। প্রচণ্ড রোদে অপেক্ষা করছেন। তবে তেল পাবেন কি না, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।
আগে যে পরিমাণ তেল বিক্রি করতে ১/৩ দিন লাগত, এখন একই পরিমাণ তেল এক দিনেই শেষ হচ্ছে বলে জানান রিয়েল ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক।
তেল নিতে আসা একাধিক বাইকার অভিযোগ করে বলেন, বিভিন্ন এনজিও নারী কর্মীরা চালক বদলে তেল নিচ্ছেন। ফলে একই ক্রেতা বারবার তেল নিচ্ছেন।
পার্বতীপুর রেলহেড অয়েল ডিপোর একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, উত্তরাঞ্চলের ৮ জেলার প্রায় দুই শতাধিক পাম্পে দৈনিক ডিজেলের চাহিদা ১৫ লাখ লিটার, পেট্রল ৩ লাখ লিটার ও অকটেন ২ লাখ লিটার। বর্তমানে ডিপো থেকে দৈনিক গড়ে সরবরাহ করা হচ্ছে ডিজেল ৭/৮ লাখ লিটার, পেট্রল প্রায় ২ লাখ লিটার এবং অকটেন ১ লাখ লিটার।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









