পিরোজপুর নেছারাবাদের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবার অন্যতম ভরসা কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো বর্তমানে নানা সংকটে ধুঁকছে। জরাজীর্ণ ভবন, চাহিদার তুলনায় ঔষধের স্বল্প সরবরাহ, স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট ও সুপেয় পানির অভাবে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা। ফলে পল্লী অঞ্চলের হতদরিদ্র মানুষের স্বাস্থ্যসেবা কার্যত মুখ থুবড়ে পড়ার উপক্রম হয়েছে।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন কমিউনিটি ক্লিনিক ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ ভবনের ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে। কোথাও নেই সুপেয় পানির ব্যবস্থা কিংবা স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট। অনেক ক্লিনিকে ঔষধ সংরক্ষণের উপযুক্ত পরিবেশও নেই। বর্ষাকালে এসব ক্লিনিকে বসে সেবা প্রদান প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। এতে আতঙ্ক ও অনাস্থার কারণে রোগীদের ক্লিনিকমুখিতা কমে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সেহাংগল কমিউনিটি ক্লিনিকের কমিউনিটি হেল্থ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) শিল্পী দাস জানান, তাদের ক্লিনিকের ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে এবং চারপাশের ঝোপঝাড়ে মশার উপদ্রব বেড়েছে। পলিথিন দিয়ে ছাদ ঢেকে কোনোমতে কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘‘আগে ২০ থেকে ২২ ধরনের ঔষধ দেওয়া হতো এবং প্রতিদিন গড়ে ৪০ থেকে ৫০ জন রোগী সেবা নিতে আসতেন। বর্তমানে ঔষধ সংকটের কারণে রোগী সংখ্যা কমে ৮ থেকে ১০ জনে নেমে এসেছে। অনেক রোগীকে শুধু প্যারাসিটামল ও ওরস্যালাইন দিয়েই ফিরিয়ে দিতে হচ্ছে।’’
উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নেছারাবাদের ১০টি ইউনিয়নে মোট ৩০টি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। এর মধ্যে বলদিয়ায় ৪টি, দৈহারীতে ৩টি, সারেংকাঠিতে ২টি, গুয়ারেখায় ২টি, সুটিয়াকাঠিতে ৪টি, সোহাগদলে ৫টি, আটঘর-কুড়িয়ানায় ৩টি, সমুদয়কাঠিতে ২টি, সদর ইউনিয়নে ২টি এবং জলাবাড়ীতে ৩টি ক্লিনিক রয়েছে।
সুটিয়াকাঠি কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি শারমিন বেগম বলেন, ‘‘তাদের ক্লিনিক থেকে ২৭ ধরনের ঔষধ সরবরাহের কথা থাকলেও বর্তমানে কয়েক ধরনের ঔষধ দিতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। চাহিদার তুলনায় ঔষধ সরবরাহ অত্যন্ত কম।’’
জলাবাড়ী কামারকাঠি কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি মোসাৎ মুর্শিদা বেগম জানান, ক্লিনিক ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। টয়লেট ব্যবহার অনুপযোগী, নলকূপে পানি নেই এবং বৃষ্টির সময় ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে। আগে ২২ ধরনের ঔষধ দেওয়া হলেও এখন সংকটের কারণে রোগীর সংখ্যাও কমে গেছে।
জানা গেছে, প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে ১৯৯৯ সালে সারা দেশে কমিউনিটি ক্লিনিক কার্যক্রম চালু করা হয়। মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা, প্রজনন স্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা ও টিকাদানসহ বিভিন্ন সেবা দেওয়ার কথা থাকলেও অবহেলা ও অবকাঠামোগত সংকটে সেই উদ্দেশ্য অনেকাংশেই ব্যাহত হচ্ছে।
এ বিষয়ে নেছারাবাদ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘‘কমিউনিটি ক্লিনিকের ঔষধ সরবরাহ ও ব্যবস্থাপনা আলাদা দপ্তরের আওতায় পরিচালিত হয়। বর্তমানে কিছু ঔষধ সংকট রয়েছে এবং কয়েকটি ভবনে সমস্যা দেখা দিয়েছে। বিষয়গুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।’’


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









