রাজশাহীতে এক বিএনপি নেতার বাড়িতে হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে অপর এক নেতার বিরুদ্ধে। বাড়ি ভাংচুর ও লুটপাটের বিচার চেয়ে ভুক্তভোগী সেই বিএনপি নেতা সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ঘটনার বিচার চেয়েছেন দলের সর্ব্বোচ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে ভুক্তভোগী রাজশাহী জেলা তাঁতীদলের সভাপতি ও পবা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কুতুব উদ্দিন বাদশা।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন,“আমি কুতুব উদ্দিন বাদশা, রাজশাহী জেলা তাঁতীদলের সভাপতি এবং পবা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক। হাসিনা সরকারের সময়ে জেল জুলুম সহ্য করে দলের জন্য কাজ করেছি দীর্ঘদিন। আমার এই ইউনিয়ন থেকে আমি বিএনপি এবং সহযোগী সংগঠনকে শক্তিশালী এবং একত্রিত করেছি। এছাড়াও জাতীয় নির্বাচনে বর্তমান সংসদ সদস্য অ্যাড.শফিকুল হক মিলন ভাইয়ের জন্য কাজ করেছি। কিন্তু ইদানিং লক্ষ্য করছি কিছু হাইব্রিড নেতা দলের নাম খারাপ করার জন্য বিভিন্ন উপায়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি জন্য পায়তারা করছে।
তিনি জানান, গত রবিবার কিছু কিশোর গ্যাং আমার বাড়ির সামনে মোটরসাইকেলের সাইলেন্সার খুলে বিকট শব্দ করছিল। আমার মা অসুস্থ থাকায় তাদেরকে এসব করতে মানা করা হলেও তারা শোনেনি। পরে সেই কিশোর গ্যাংদের কয়েকজন সদস্যের সাথে আমার পরিবারের লোকদের কথা কাটাকাটি হয়। এর জের ধরে সেদিন রাতে এই ইউনিয়নের নেতা সাহেব জাদা ও ববি তাদের দুজনের নেতৃত্বে আমার পরিবারের লোকদের উপরে অমানবিক হামলা চালানো হয়। পরে আমি বাধা দিতে গেলে তারা আমার উপরেও হামলা চালায়। আমার মোবাইল ফোনসহ নগদ টাকাও তারা ছিনতাই করে। আমার পরিবারের তিনজন তাদের হামলায় আহত হয়।
আমি নিজে বিএনপি নেতা হয়েও আরেক বিএনপি নেতার কাছে মার খাচ্ছি। বিগত হাসিনা সরকারের আমলেও জেল খেটেছি, মার খেয়েছি। এখন আমাদের দল ক্ষমতায় তার পরেও আবার আমাদের উপরে হামলা হচ্ছে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের কাছে আমি এবং আমার পরিবারের নিরাপত্তা চাই এবং এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানাচ্ছি। আমরা দলের ত্যাগী পুরানো কর্মী, আমি আমার দলের কাছেও সহযোগিতা চাই।”
এই ঘটনায় কুতুব উদ্দিন বাদশার মা সাহেদা বেগম আরএমপি দামকুড়া থানায় উপস্থিত হয়ে সাহেব জাদাকে প্রধান অভিযুক্ত করে মোট ১০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে সাহেব জাদা মুঠোফোনে বলেন,“গ্রামবাসীর ভিতরের ঝগড়ায় আমাকে জড়ানো হয়েছে কেন সেটাই বুছতে পারছি না। আমি হরিপুর ইউনিয়নে ভোট করবো সেজন্য আমার পিছনে তারা লেগেছে। সে (কুতুব উদ্দিন বাদশা) হরিপুরে ভোট করবে, আমিও করবো। দল যাকে সমর্থন বা মনোনয়ন দিবে আমি তার পক্ষে হয়ে কাজ করবো। কিন্ত আমার বিরুদ্ধে যেগুলো অভিযোগ তোলা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা।”


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









