চট্টগ্রামের হালিশহর থানাধীন আগ্রাবাদের এক্সেস রোড এলাকায় ওয়াসার মাটি খননের সময় ধসে পড়ে দুই শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুই শ্রমিক।
বৃহস্পতিবার ভোর ৪টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস গিয়ে হতাহতদের উদ্ধার করে।
নিহত দুই শ্রমিকের নাম রাকিব ও তুষার। আহত দুই শ্রমিকের নাম সাগর ও এরশাদ। তারা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স চট্টগ্রাম বিভাগের উপ-পরিচালক মো. জসিম উদ্দিন বলেন, “ভোর ৪টার দিকে আগ্রাবাদ অ্যাকসেস রোডের সিঙ্গাপুর মার্কেটের সামনে ওয়াসার পানির পাইপ বসানোর জন্য মাটি কাটার সময় চারজন শ্রমিক মাটি চাপা পড়েন। আমাদের টিম তাদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পৌঁছে দেয়। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুই জনকে মৃত ঘোষণা করেন।”
ফায়ার সার্ভিস চট্টগ্রামের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ জসীম উদ্দীন জানান, বুধবার রাতে খনন কাজ চলাকালে হঠাৎ মাটি ধসে পড়ে। এতে চার শ্রমিক মাটির নিচে চাপা পড়েন। পরে সহকর্মীরা তাদের উদ্ধার করে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুইজনকে মৃত ঘোষণা করেন।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক নুরুল আলম আশেক জানান, আহত দুই শ্রমিক সাগর ও এরশাদকে হাসপাতালের ক্যাজুয়ালটি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানা যায়নি। ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
চট্টগ্রাম ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী মাকসুদ আলম বলেন, ‘প্রকল্পের পিডির (প্রজেক্ট ডিরেক্টর) সঙ্গে কথা বলে জেনেছি, খনন কাজে মাটি চাপা পড়ে শ্রমিক আহত হয়েছে।’
প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম ইসলামকে একাধিকবার ফোন দিলেও তার নম্বরে সংযোগ পাওয়া যায়নি।
চট্টগ্রাম ওয়াসার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, “আমাদের স্যুয়ারেজ প্রকল্পের কাজ চলছে। আগ্রাবাদ অ্যাকসেস রোডের ওই অংশে ট্রায়াল পিট করার কাজ চলছিল। গভীর রাতে কাজ করার সময় মাটি চাপা পড়ে দুই শ্রমিক নিহত ও দুজন আহত হয়েছে। চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিনো হাইড্রোর কাজটি করছে। তাদের কাছে এক্সিডেন্ট রিপোর্ট চেয়েছি।”
নিহত দুই শ্রমিকের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “পরিবারের সদস্যরা এসেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো যাতে ক্ষতিপূরণ পায়, সে বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাথে আমরা কথা বলছি। যদিও মৃত্যুর কোনো ক্ষতিপূরণ হয় না।”
চট্টগ্রাম মেডিকেল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই নুরুল আলম জানান, চার শ্রমিককে হাসপাতালে আনা হলে চিকিৎসক দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন এবং আহত দুজন ক্যাজুয়াল্টি ওয়ার্ডে চিকিৎসা নিচ্ছেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









