পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় একদিকে তীব্র দাবদাহ, অন্যদিকে ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। উপজেলা শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রাম; সর্বত্রই বিদ্যুতের এই সংকট এখন চরমে। স্থবিরতা নেমে এসেছে ব্যবসা-বাণিজ্যেও।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, মঠবাড়িয়ার বিদ্যুৎ এখন হোমিওপ্যাথির ডোজের মত হয়ে পড়েছে। প্রতি দুই ঘন্টা পরে এক ফোঁটা। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এসএসসি পরীক্ষার্থীসহ ব্যবসা-বানিজ্যে। দিনের বেশির ভাগ সময়ই বিদ্যুৎ থাকছে না। কখনো এক ঘণ্টা পর পর, আবার কখনো টানা দুই থেকে তিন ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকছে এলাকা। এছাড়া প্রতি শনিবার সকাল-সন্ধ্যা বিদ্যুৎ থাকে না।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) ভোর থেকে বিকেল পর্যন্ত উপজেলার অধিকাংশ এলাকায় আধা ঘণ্টা পর পর লোডশেডিং চলতে দেখা গেছে। লোডশেডিংয়ের কারণে বিপণিবিতানগুলোতে ক্রেতা কমে গেছে। ব্যাংকিং সেবায় এসেছে ধীরগতি। চার্জ হতে না পারায় কাজ করছে না আইপিএস।
এদিকে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন উপজেলার কয়েক হাজার এসএসসি পরীক্ষার্থীরা। অসহনীয় গরমে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া তাদের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাতের বেলায় বিদ্যুৎ না থাকায় স্বস্তিতে ঘুমাতেও পারছেন না কেউই। শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থদের দুর্ভোগ আরও বেশি বেড়েছে।
পরীক্ষার্থী সম্পা মিত্র বলেন, “পড়তে বসলেই বিদ্যুৎ চলে যায়। মোমবাতি জ্বালিয়ে পড়তে বসলে গরমে অতিষ্ঠ হয়ে উঠি। পরীক্ষার সময় কেন এতো লোডশেডিং। সরকার কেন যে এই অসহনীয় লোডশেডিং বন্ধ করছে না, তা আমাদের বোধগম্য নয়।”
এসএসসি শিক্ষার্থী চুমকি আক্তার বলেন, “নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না থাকায় রাতে ঠিকমতো পড়াশোনা করা সম্ভব হচ্ছে না, এতে পরীক্ষার প্রস্তুতি ব্যাহত হচ্ছে। রাতে অনেকবার বিদ্যুৎ যায়। পড়াশোনায় খুব ক্ষতি হচ্ছে। দ্রুত এর সমাধান চাই।”
এদিকে উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে আরও খারাপ অবস্থা। তীব্র ভ্যাপসা গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে লোডশেডিং, ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন প্রায় সাড়ে ৫ লাখ মানুষ। শহরে ঘন্টায় ঘন্টায় কিছুক্ষণের জন্য বিদ্যুৎ পেলেও গ্রামগুলোতে সারাদিনই বিদ্যুৎ থাকে না। গ্রাম পর্যায়ে মধ্যরাতের পর কিছুক্ষণের জন্য বিদ্যুৎ এলেও আবার চলে যায়। দিনভর কঠোর পরিশ্রমের পর বিদ্যুৎ না থাকায় স্বস্তি পাচ্ছেন না নিম্ন আয়ের মানুষ। গরমে ক্লান্ত শরীর নিয়ে বাড়ি ফিরেও তারা পাচ্ছেন না বিশ্রামের সুযোগ।
শহরের কে এম লতীফ মেডিসিন মার্কেটের ব্যবসায়ী গাজী মাসুদ জানান, ঘণ্টায় ঘণ্টায় লোডশেডিংয়ের কারণে দোকানে বসে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। গ্রাহক নেই, আবার আইপিএসও চার্জ হচ্ছে না। ফলে দোকানের সামনে অলস সময় কাটাতে হচ্ছে।
একই অবস্থা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগীদের। বিদ্যুৎ না থাকায় হাসপাতালে এক্স-রেসহ বিভিন্ন টেষ্ট করানো যাচ্ছে না।
মঠবাড়িয়া জোনাল অফিসের ডিজিএম মো. আমিনুল ইসলাম সুমন বলেন, “চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় লোডশেডিং দিতে হয়। ১৬ মেগাওয়াট ডিমান্ড। বিদ্যুৎ পাই ১২ মেগাওয়াট কখনো ৬ মেগাওয়াট। ভান্ডারিয়া গ্রিট থেকে কন্ট্রোল করে। ফ্রিকুয়েন্সি ডাউন হলে লোড কমিয়ে দেয়। গ্রিড থেকে যখন বলে তখনই সাথে সাথে লোডশেডিং দিতে হয়। কতবার লোডশেডিং দিতে হয় তার হিসেবে আমাদের কাছেও নেই। তবে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া চেষ্টা চলছে।”


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









