কুষ্টিয়া শহরের প্রধান কাঁচাবাজারগুলোতে সপ্তাহের ব্যবধানে সবজির দামে চরম অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। কোনো সবজির দাম কমলেও কোনোটির দাম আকাশছোঁয়া। দ্রব্যমূল্যের এই অসম উঠানামায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। তাদের অভিযোগ, বাজার তদারকিতে প্রশাসনের গাফিলতির সুযোগে অসাধু ব্যবসায়ীরা ফায়দা লুটছে।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকালে কুষ্টিয়া পৌর বাজার ঘুরে দেখা যায়, গত সপ্তাহের তুলনায় পটলসহ কিছু সবজির দাম কিছুটা কমলেও বেগুন ও টমেটোর মতো নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে দ্বিগুণ। গত সপ্তাহে যে পটল ৮০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে, তা আজ ৫০ থেকে ৬০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। তবে টমেটোর দাম ৩০ টাকা থেকে লাফিয়ে ৫০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। করলা ও ঝিঙের দামও বেড়েছে কেজি প্রতি ১০ থেকে ২০ টাকা।
বিক্রেতারা সরবরাহ কম থাকার অজুহাত দিলেও ক্রেতারা বলছেন ভিন্ন কথা।
জাকারিয়া আল মামুন নামের এক ক্রেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বাজারে অনেক সবজি, দেখে কিনতে ইচ্ছে করে, কিন্তু পকেটের অবস্থার কথা ভেবে পিছিয়ে আসতে হয়। দাম যদি না কমে, তবে আমাদের মতো সাধারণ মানুষের টিকে থাকা কঠিন হবে।”
সবজি বিক্রেতা এনামুল হোসেন বলেন, “গত সপ্তাহের চাইতে এ সপ্তাহে সব সবজির দাম ডবল হয়ে গেছে।”
সবজি বাজারের মতো মাছ ও মাংসের বাজারেও খুব একটা স্বস্তির খবর নেই। গরুর মাংস গত সপ্তাহের মতো ৮০০ টাকা কেজি দরেই বিক্রি হচ্ছে। মাছের বাজারে ইলিশ ও চিংড়ির দাম কেজি প্রতি আরও ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে।
বাজারে মাংস কিনতে আসা রেবা বেগম বলেন, “মাংসের দাম উঠানামা করেনি। তবে দাম কমলে ভালো হতো।”
মাছ বিক্রেতা রাজু হোসেন বলেন, “এ সপ্তাহে সকল মাছের দাম কিছুটা বেড়েছে।”
বাজারে আসা মাছ ক্রেতা শরিফুল ইসলাম রাজু বলেন, “মাছের দাম দিন দিন বাড়তেই আছে। বর্তমানে মাছ কেনা আমাদের হাতের নাগালের বাইরে চলে গেছে। মাছ কেনা এখন মধ্যবিত্তের জন্য বিলাসিতায় পরিণত হয়েছে।”
অপরদিকে খুচরা বাজারে সয়াবিন তেল ও ডিমের দাম বৃদ্ধিতে নিম্ন আয়ের মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। কয়েক দিন আগেও যে ডিম ১০০ টাকা ডজনে পাওয়া যেত, তা এখন ১২৯ টাকা ডজন। সয়াবিন তেল লিটার প্রতি ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়ে ২০৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ডিম ও তেলের এই অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধিতে ভোক্তাদের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে।
মুদি ক্রেতা সুমি খাতুন বলেন, “মুদি বাজারে সবকিছুর দাম একটু বেশি। কিন্তু এসবের মধ্যে সয়াবিন তেলের দাম বাড়তি। আগে সয়াবিন তেল ১৯৫ টাকা করে কেনা হতো। এখন ২২০ টাকা লিটার কিনে খেতে হচ্ছে।”
অন্যদিকে খানিকটা স্বস্তি মিলেছে মুরগির বাজারে। ব্রয়লার ও সোনালী মুরগির দাম গত সপ্তাহের তুলনায় কেজি প্রতি ১০ থেকে ২০ টাকা কমেছে। বর্তমানে ব্রয়লার মুরগি ১৮০ টাকা এবং সোনালী মুরগি ৩৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে ক্রেতাদের দাবি, আগে যে হারে দাম বাড়ানো হয়েছিল, কমার হার সেই তুলনায় অনেক কম।
বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সরকারি নজরদারি বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করছেন সচেতন মহল। তারা বলছেন, নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত ও বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা কার্যকর থাকলে ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমতো দাম বাড়ানোর সাহস পেত না। ক্রেতাদের প্রত্যাশা, প্রশাসন কঠোর হলে অসাধু চক্রের সিন্ডিকেট ভাঙা সম্ভব হবে এবং নিত্যপণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে ফিরে আসবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









