টানা তাপদাহ, অনাবৃষ্টি এবং শিলাবৃষ্টির কারণে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে বিখ্যাত লিচুর ফলনে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। তীব্র গরমে লিচুর গুটি ঝরে যাওয়া এবং সঠিক পুষ্টি না পাওয়ায় এ বছর লিচুর আকার ছোট হয়েছে এবং ফলন আশানুরূপ না হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
অনাবৃষ্টি ও তীব্র দাবদাহের প্রভাবে বাগানগুলোয় লিচুর গুটি ঝরে পড়ছে। তাই এ বছর আশানুরূপ মুনাফা না পাওয়ার শঙ্কায় বাগানিরা। দেশের অন্যসব অঞ্চলের লিচু বাজারে আসার পূর্বে সোনারগাঁয়ের লিচু বাজারে আসে বলে প্রতিবার ফলন সংকটেও লোকশান কাটিয়ে ওঠার স্বপ্নবাঁধে স্থানীয় বাগানিরা। দীর্ঘদিন অনাবৃষ্টির কারনে মুকুল অনুযায়ী গুটি হয়নি যতোটুকু গুটি হয়েছে তাও তাপদাহে টিকতে না পেরে ঝড়ে পড়ছে। এছাড়াও লিচু পুষ্ট হওয়ার আগেই লালচে রং ধারন করছে। যা ফলন বিপর্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে।
উপজেলার বিভিন্ন বাগানি ও ব্যবসায়ীরা জানান, বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে লিচুর চাষ হলেও এ অঞ্চলের লিচু সুস্বাদু ও আগাম বাজারে আসে। এ জন্য সোনারগাঁয়ের লিচুর চাহিদা বেশি। তবে এ বছর অনাবৃষ্টি ও তীব্র দাবদাহে লিচুর গুটি ঝরে পড়ছে। একই কারণে লিচু আকারে ছোট ও অপুষ্ট থেকে যাচ্ছে।
লিচু বাগানী রানা সিকদার বলেন, যে হারে মুকুল এসেছিলো অনাবৃষ্টি ও তাপদাহের কারনে আশানুরূপ গুটি আসেনি। যতোটুকু এসেছে তাও প্রচন্ড রৌদ্র ও তাপদাহের কারনে তাও ঝরে পড়ছে।
ব্যবসায়ী আক্তার হোসেন বলেন, তাপদাহের কারনে শুধু গুটিই ঝরে পড়ছে না, অতিরিক্ত তাপে অপুষ্ট লিচু রং ধরতে শুরু করেছে। এতে লোকসানের আশঙ্কা করছেন বলেও তিনি জানান।
সোনারগাঁ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু সাঈদ তারেক জানান, অনাবৃষ্টি ও তীব্র দাবদাহে লিচুর ফলনে বিপর্যয়রোধে বাগানিদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পরামর্শের অংশ হিসেবে প্রতিটি গাছের গোড়ায় মাটি দিয়ে রিং তৈরি, পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ করাসহ প্রতি ১ লিটার পানিতে ৩ গ্রাম ইউরিয়া সার এবং পৃথকভাবে ১ গ্রাম বরিক অ্যাসিড মিশ্রিত পানি লিচু গাছে ছিটানোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









