যমুনা নদীর ওপর নির্মিতব্য দ্বিতীয় যমুনা সেতু বগুড়ার সারিয়াকান্দি এবং জামালপুরের মাদারগঞ্জ রুটে নির্মাণের জন্য জাতীয় সংসদে জোরালো দাবি জানানো হয়েছে। উত্তরবঙ্গের সাথে রাজধানী ঢাকা ও ময়মনসিংহের দূরত্ব কমিয়ে আনতে এবং অর্থনৈতিক বিপ্লব ঘটাতে এই রুটটিকে সবচেয়ে কার্যকর হিসেবে উল্লেখ করেছেন জনপ্রতিনিধিরা।
সারিয়াকান্দি-মাদারগঞ্জ রুটে সেতুটি নির্মিত হলে বগুড়া থেকে ঢাকার দূরত্ব প্রায় ৭০/৮০ কিলোমিটার কমে আসবে।
সম্প্রতি জাতীয় সংসদে জামালপুর-৩ (মেলান্দহ-মাদারগঞ্জ) আসনের সরকারদলীয় সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের এক প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানান, বিদ্যমান যমুনা সেতু সংকীর্ণ (চার লেন) হওয়ায় ক্রমবর্ধমান যানবাহনের চাপে প্রায়ই যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এই সমস্যা নিরসনে যমুনা নদীর ওপর বিকল্প একটি সেতু নির্মাণ এখন সময়ের দাবি। তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের মাস্টারপ্ল্যানে ২০৩৩ সালের মধ্যে দ্বিতীয় যমুনা সেতু বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হয়েছে।
সেতু মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে তিনটি সম্ভাব্য অ্যালাইনমেন্ট নিয়ে সমীক্ষা চলছে। একটি বগুড়ার সারিয়াকান্দি থেকে জামালপুরের মাদারগঞ্জ। অপরটি গাইবান্ধার বালাসী ঘাট থেকে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ অথবা অন্য কোনো কারিগরিভাবে উপযুক্ত করিডোর।
তবে ভৌগোলিক অবস্থান এবং অর্থনৈতিক গুরুত্বের বিবেচনায় সারিয়াকান্দি-মাদারগঞ্জ রুটটিই স্থানীয়দের কাছে সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য ও লাভজনক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বর্তমানে বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জ হয়ে ময়মনসিংহ যাতায়াতে প্রায় ১৮৩ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয়। সারিয়াকান্দি দিয়ে সেতু নির্মিত হলে এই দূরত্ব সরাসরি ৮০ কিলোমিটার কমে যাবে। বিদ্যমান যমুনা সেতুর ওপর চাপ কমবে এবং উত্তরবঙ্গের যাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকতে হবে না। যমুনার দুই তীরের চরাঞ্চলের মানুষের ভাগ্য বদলে যাবে। বিশেষ করে কৃষি পণ্য পরিবহনে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। উত্তরবঙ্গের চাল, সবজি এবং পাথর সরাসরি ময়মনসিংহ বিভাগ ও সিলেটে দ্রুত পৌঁছানো সম্ভব হবে।
চলমান সংসদ অধিবেশনে গত রবিবার আবারও ২য় যমুনা সেতুটি সারিয়াকান্দি-মাদারগঞ্জ রুটে নির্মাণের জোর দাবি জানিয়েছেন বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব কাজী রফিকুল ইসলাম।
তিনি বলেন, যমুনা নদীর ওপর ২য় সেতুটি যেন সারিয়াকান্দি-জামালপুর হয়েই ঢাকার সাথে সংযোগ করা হয়। তাহলে ৭০ কিলোমিটার দূরত্ব কমবে এবং দেশের অর্থনীতিতে বিরাট ভূমিকা রাখবে।
যমুনার ওপর একটি সেতু এই অঞ্চলের মানুষের শত বছরের স্বপ্ন। এটি বাস্তবায়িত হলে কৃষকদেরও ভাগ্যের উন্নয়ন হবে।
উল্লেখ্য, ১৯৩৮ সালে বাহাদুরাবাদ-তিস্তামুখ রুটে ফেরি চলাচল শুরু হলেও ১৯৮৮ সালের বন্যায় নদীর গতিপথ পরিবর্তনের ফলে তা বন্ধ হয়ে যায়। ২০২২ সালের মার্চ মাসে সেতু কর্তৃপক্ষের একটি বিশেষজ্ঞ দল সারিয়াকান্দি-মাদারগঞ্জ রুটে প্রাথমিক ট্রাফিক সার্ভে সম্পন্ন করে। জেলাবাসীর প্রত্যাশা, বর্তমান সরকার দ্রুত এই প্রকল্প অনুমোদন দিয়ে উত্তরাঞ্চলের মানুষের প্রাণের দাবি পূরণ করবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









