বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে কক্সবাজারে টানা বৈরি আবহাওয়া বিরাজ করছে। গত দুই দিন ধরে সূর্যের দেখা মিলছে না, আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকছে সারাদিন। মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টি কখনও গুঁড়ি গুঁড়ি, আবার কখনও ভারী আকারে অব্যাহত রয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে বেড়াতে আসা পর্যটকেরা।
বুধবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরের পর থেকে মুষলধারে বৃষ্টির সঙ্গে উপকূলজুড়ে বইছে ঝড়ো হাওয়া।
অবিরাম বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে উপকূলীয় লবণ উৎপাদন। জেলার সাত উপজেলায় প্রায় ৬০ হাজার একর জমিতে লবণ চাষ হলেও বৈরি আবহাওয়ার কারণে চাষিরা মাঠে নামতে পারছেন না। অনেকস্থানে উৎপাদিত লবণ বৃষ্টিতে ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
আবহাওয়া অধিদপ্তর কক্সবাজার কার্যালয়ের সহকারী আবহাওয়াবিদ আব্দুল হান্নান জানান, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও আশপাশের এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্যের কারণে অস্থির আবহাওয়া বিরাজ করছে। এর প্রভাবে কক্সবাজারসহ দেশের চার সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, বুধবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজারে ৫৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী তিন থেকে চার দিন ভারী বৃষ্টি ও বজ্রমেঘের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। অতিবর্ষণের কারণে কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের আশঙ্কাও রয়েছে।
বৈরি আবহাওয়ার কারণে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে বেড়াতে আসা পর্যটকেরা ভোগান্তিতে পড়েছেন। সকাল থেকেই গুমোট আবহাওয়া, ঝড়ো হাওয়া ও থেমে থেমে বৃষ্টির কারণে অনেক পর্যটক হোটেল কক্ষেই অবস্থান করছেন। তবে কিছু পর্যটক ঝুঁকি উপেক্ষা করে উত্তাল সাগর দেখতে সৈকতে যাচ্ছেন।
লঘুচাপের প্রভাবে গত দুই দিন ধরে সাগর উত্তাল থাকায় সৈকতের লাবণী, সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্টে পর্যটকদের সমুদ্রে নামতে সতর্ক করা হচ্ছে। দায়িত্বে থাকা লাইফগার্ড, বিচকর্মী ও ট্যুরিস্ট পুলিশ সদস্যরা মাইকিং করে সতর্কতা জারি রেখেছেন।
ইনানী সৈকতের দায়িত্বে থাকা জেলা প্রশাসনের বিচকর্মীদের সহকারী সুপারভাইজার বেলাল হোসেন জানান, সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত থাকায় পর্যটকদের গোসলে নামা থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ করা হচ্ছে।
সি সেফ লাইফগার্ডের সুপারভাইজার ওসমান গনি বলেন, “গত দুই দিন ধরে সাগর খুবই উত্তাল। তাই পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থে সমুদ্রে নামতে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। তবে অনেকেই সতর্কতা না মেনে পানিতে নামছেন।”
কক্সবাজার হোটেল মালিক সমিতির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে জেলায় প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার পর্যটক অবস্থান করছেন। তবে বৈরি আবহাওয়া অব্যাহত থাকলে পর্যটকের সংখ্যা কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









