বান্দরবানের লামা ও আলীকদম উপজেলায় তামাক চাষ একটি দীর্ঘদিনের প্রচলিত কৃষি কার্যক্রম। অধিক লাভের আশায় বহু কৃষক তামাক চাষে জড়িয়ে পড়লেও সম্প্রতি সময়ে তামাক ক্রয় প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে ব্যাপক অনিয়ম, গ্রেড নামে অভিনব প্রতারণা ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে। মূলত তামাক কোম্পানিগুলোর গুটি কয়েক কর্মকর্তা, কর্মচারীর অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতিই চাষিদের মুখের হাসি ও পরিবারের স্বপ্ন কেড়ে নিচ্ছে।
জানা যায়, অধিক লাভের আশায় তামাক কোম্পানির দেওয়া লভ্যাংশের প্রলোভনে পড়ে অনেক চাষি এনজিও এবং মহাজনদের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে তামাক চাষ করেছেন। কিন্তু ন্যায্য দামে তা বিক্রি করতে না পেরে প্রায় চাষি ঋণের বোঝায় জর্জরিত। এতে তাদের অর্থনৈতিক সংকট ও মানসিক দুর্ভোগ বাড়ছে।
চাষিদের সূত্রে জানা গেছে, তামাক বিক্রি করে কৃষকের পরিবর্তে লাভবান হচ্ছে এক শ্রেণির দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগী। আর কোম্পানিগুলোর গ্রেড প্রতারণা, ওজনে কারচুপিসহ নানা ছলচাতুরীর বাহানায় তামাকের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে কৃষক। উপজেলার সবকটি বিক্রয় কেন্দ্রগুলোতে ঘটছে এমন অপ্রীতিকর ঘটনা। ফলে ভিটে বাড়ি বিক্রি করে ঋণ পরিশোধ করতে হবে তাদের।
ভুক্তভোগী চাষিরা বলেন, কোম্পানিগুলো চলতি মৌসুমে নানান ছলচাতুরীর আশ্রয় নিয়ে এখন আমাদের ঠকাচ্ছে। তারা নিজেদের ইচ্ছামত গ্রেডিং করছেন। একই ধরনের তামাক কোনো পরিচিত চাষি থেকে স্বজনপ্রীতি দেখিয়ে ক্রয় করেছেন, আবার অন্য চাষির ক্ষেত্রে নিম্নমানের বলে বাদ দিচ্ছেন। এসব অনিয়ম ও প্রতারণার কারণে জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, পরিস্থিতি এমন হলে আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, গত তিন যুগের বেশি সময় ধরে লামা ও আলীকদম উপজেলার ফসলি জমিতে বিষবৃক্ষ তামাক চাষ হয়ে আসছে। দেশের বিভিন্ন তামাক কোম্পানির স্থানীয় কর্মকর্তাদের লোভনীয় ডাকে ধান ও অন্যান্য ফসল উৎপাদন না করে তামাক চাষ করে থাকে কৃষকরা। ফলে প্রতিবছর কোম্পানিগুলোর প্রতারণার শিকার হয়েও অধিক লাভের আশায় তামাক চাষে ঝুঁকছেন কৃষকরা।
এ বিষয়ে লামা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, “বর্তমান সরকার কৃষি বান্ধব সরকার। কৃষকদেরকে সার, বীজসহ নানান ধরনের সহযোগিতা করে যাচ্ছে। আমরা বিভিন্নভাবে কৃষকদেরকে তামাক চাষে নিরুৎসাহিত করে আসছি। তারপরও তারা তামাক কোম্পানিগুলোর প্রলোভনে অধিক লাভের আশায় তামাক চাষ করছে। সরকারি কোনো নির্দেশনা না থাকায় তামাক বিক্রির সময়ে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের মনিটরিং করা হয় না।”


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









