ছোট্ট একটি চারা দিয়ে শুরু। সেই শুরু থেকেই চাঁদপুরের মতলব উত্তরের মাটিতে প্রথমবারের মতো বহুজাতিক আঙুর বাগান গড়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা ইকরাম খান সীমান্ত।
উপজেলার ফরাজীকান্দি ইউনিয়নের ছোট হলদিয়া গ্রামে এক একরেরও বেশি জমিতে থোকায় থোকায় ঝুলছে প্রায় ২৫০ জাতের লাল, হলুদ, কাঁচা-পাকা নানা রঙের আঙুর। দৃষ্টিনন্দন এই বাগান এখন স্থানীয়দের পাশাপাশি দূর-দূরান্তের মানুষের কাছেও আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু।
সীমান্তের রয়েছে মোট চারটি বড় আঙুর বাগান। এসব বাগানে বর্তমানে ব্ল্যাক ম্যাজিক, ডিক্সন, ল্যাম্বরগিনি, সুপারনোভা, এঞ্জেলিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জনপ্রিয় জাতের আঙুর ফলছে। বিদেশ থেকে সংগ্রহ করা শতাধিক জাতের আঙুর চাষ করে ইতোমধ্যে ভালো ফলন পেয়েছেন তিনি।
উৎপাদিত আঙুর দিয়ে পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে লক্ষাধিক টাকার ফল বাজারজাত করেছেন সীমান্ত। পাশাপাশি আঙুরের চারা বিক্রি করেও আয় করেছেন প্রায় ১০ লাখ টাকার বেশি। প্রতিদিনই চাঁদপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ তার বাগান দেখতে ভিড় করছেন। কেউ শখে, কেউ শিখতে, আবার কেউ নতুন সম্ভাবনার স্বপ্ন বুনতে আসছেন এখানে।
ইকরাম সীমান্ত জানান, এইচএসসি পাসের পর থেকেই তার বাবা সাবেক কৃষি কর্মকর্তা সায়েদুল ইসলাম খানের পরামর্শে কৃষির প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠেন তিনি। ২০১৯ সালে গাজীপুরে ছাদবাগান থেকেই তার আঙুর চাষের যাত্রা শুরু। পরে জন্মভূমি মতলবে ফিরে গত বছরের শুরুতে চারটি বাগানে পরীক্ষামূলকভাবে চাষ শুরু করেন। মাত্র এক বছরের মধ্যেই ৫০টিরও বেশি জাতে ফলন আসে। এখন পর্যন্ত সাড়ে ৬০০ কেজির বেশি বিষমুক্ত পাকা ও আধাপাকা আঙুর উৎপাদন করেছেন তিনি।
সীমান্ত বলেন, “আমাদের দেশের আবহাওয়ায় অনেক সময় আঙুরে অস্বাভাবিক দাগ পড়ে যায়। সরকারি সহায়তায় আধুনিক গ্রীনহাউজ সুবিধা পেলে আরও উন্নতমানের উৎপাদন সম্ভব।”
সীমান্তের বাবা সাবেক কৃষি কর্মকর্তা সায়েদুল ইসলাম খান বলেন, “আমাদের দেশে কৃষিকে এখনো অনেক তরুণ নিরাপদ পেশা হিসেবে দেখে না। কিন্তু সঠিক পরিকল্পনা, আধুনিক প্রযুক্তি ও ধৈর্য থাকলে কৃষিতেই সফলতা সম্ভব, তার জীবন্ত উদাহরণ আমার ছেলে। শুরুতে অনেকেই নিরুৎসাহিত করেছিল, কিন্তু সে হাল ছাড়েনি। আমি সবসময় তাকে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চাষাবাদের পরামর্শ দিয়েছি। এখন তার সাফল্য দেখে এলাকার তরুণদের মধ্যেও আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তারা যদি এই খাতে এগিয়ে আসে, তাহলে একদিকে যেমন নিজেদের কর্মসংস্থান হবে, অন্যদিকে দেশের কৃষি খাতও শক্তিশালী হবে।”
এদিকে সীমান্তের এই সাফল্যে সন্তোষ প্রকাশ করেছে উপজেলা কৃষি বিভাগ।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফয়সাল মোহাম্মদ আলী জানান, ইকরামের বাগান একাধিকবার পরিদর্শন করা হয়েছে। বিষমুক্ত ও সুস্বাদু আঙুর উৎপাদন করে তিনি এলাকায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। কৃষি অফিস থেকে তাকে উদ্যোক্তা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং নিয়মিত পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে বাণিজ্যিকভাবে আঙুর চাষ করে দেশের আমদানি নির্ভরতা কমানোর স্বপ্ন দেখছেন এই তরুণ উদ্যোক্তা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









