টানা বৃষ্টি ও সপ্তাহব্যাপী দুর্যোগপূর্ণ আবহওয়ার মুখে উঠতি ইরি-বোরো ধান ও ভূট্টা নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার কৃষকরা। ধান জলমগ্ন জমিতে মাটির সাথে লেপ্টে পড়েছে।
ইতিমধ্যে যেসব কৃষক ধান ও ভুট্টা ঘরে তুলেছেন, কিন্তু এখন পর্যন্ত সে সব ধান ও ভুট্টা রোদে শুকাতে পারেননি। সেগুলোতে ইতিমধ্যে শেকড় ও চারা গজাতে শুরু করেছে। কীভাবে সেগুলো শুকানো যায়, এনিয়ে কৃষকরা কোনো কূল কিনারা খুঁজে পাচ্ছেন না।
অন্যদিকে, মাঠে থাকা বিশেষ করে তুলনামূলক নিম্নাঞ্চলের ইরি-বোরো ধান ক্ষেত জলমগ্ন হয়েছে। এসব ক্ষেতের বৃষ্টির পানি দ্রুত না সরলে জমিতেই চারা গজানোর আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা। ভুট্টা ক্ষেতের অবস্থা নিয়ে একইভাবে উদিগ্ন তারা। এমন কোনো ভুট্টা ক্ষেত নেই যেটা টানা বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। দমকা হাওয়া মোচাসহ ভুট্টার গাছ ভেংগে পড়ছে।
এ ব্যাপারে চন্ডিপুর ইউনিয়নের কালিকাবাড়ী সরকারপাড়া গ্রামের কৃষক মোস্তাক আহম্মেদ (৩৬) বলেন, “৫ দিন ধরে মিনিকেট ধান পানির নিচে ডুবে আছে। আজ বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ছয়জন শ্রমিকের সঙ্গে আমি নিজেও জমির আধা-পাকা ইরি-বোরো ধান কাটছি।”
আগে এক বিঘা (৬০ শতক) জমির ধান কাটতে ৪-৫ হাজার টাকা লাগতো। সেখানে বিঘাপ্রতি ৭-৮ হাজার মজুরি দিতে হচ্ছে। মন্মথপুর ইউনিয়নের দাড়ামপাড়া গ্রামের কৃষক জিয়াউল হক (৩৮) জানান, গত (২৪ এপ্রিল) শুক্রবার দেড় বিঘা জমির ভুট্টা ভেঙ্গেছি। এখনও রোদে শুকাতে না পেরে সেগুলোতে চারা গজাতে শুরু করেছে।
পার্বতীপুর উপজেলা কৃষি অফিসার মো. রাজিব হুসাইন বলেন, “এ বছর উপজেলায় ২২ হাজার ৭৯৬ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো ধান চাষ করা হয়েছে। এরমধ্যে মাত্র ১৫ হেক্টরের মতো ইরি-বোরা ধান ক্ষেত এবং ৫ হেক্টর ভুট্টা ক্ষেত বৃষ্টির পানি ও ঝড়ো হওয়ায় জলমগ্ন হয়েছে। তবে, কৃষকদের অভিমত ক্ষতিগ্রস্ত জমির পরিমান শতাধিক হেক্টরের কম নয়।”


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









