দিনাজপুরের পার্বতীপুরে রিকশাচালক থেকে স্বনির্ভর কারিগর হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন মো. ওবায়দুল হক স্বপন। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকলেও নিজের চেষ্টায় অর্জিত দক্ষতায় তিন দশক ধরে তিনি জীবিকা নির্বাহ করছেন সাজসজ্জা ও হাতে আঁকা লেখার কাজ করে।
পার্বতীপুর প্রেস ক্লাব গেট সংলগ্ন ‘উৎসব ফুল বিতান’-এর স্বত্বাধিকারী স্বপনের গ্রামের বাড়ি উপজেলার রামপির ইউনিয়নের বাসুপাড়া গ্রামে। একসময় রিকশা চালিয়ে জীবিকা চালালেও ধীরে ধীরে নিজের সৃষ্টিশীলতা কাজে লাগিয়ে গড়ে তোলেন এই পেশা।
তিনি কোনো লেখা পড়তে পারেন না। তবে দেখে দেখে বাংলা, ইংরেজি, হিন্দি বা আরবি যেকোনো ভাষার অক্ষর রং-তুলির মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলতে পারেন নিখুঁতভাবে। বোর্ডে আল্পনা আঁকা এবং ফুল দিয়ে সাজসজ্জায় বিশেষ দক্ষতা রয়েছে তার। গায়ে হলুদ, বিয়ে, বাসর ঘর, জন্মদিন বা হালখাতাসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের জন্য তিনি তৈরি করেন আকর্ষণীয় সাজসজ্জা।
প্রায় ৩০ বছর ধরে এই পেশায় যুক্ত থেকে তিন ছেলে ও এক মেয়েকে বড় করেছেন। বর্তমানে তার দুই ছেলে একই কাজে সহযোগিতা করছেন তাকে। এই আয় দিয়েই চলে তিনটি পরিবারের ভরণপোষণ, যদিও সঞ্চয় বলতে তেমন কিছু নেই।
নিজের শৈশবের কথা বলতে গিয়ে স্বপন জানালেন, দারিদ্র্যের কারণে তিনি সুযোগ পাননি শিক্ষা লাভের। ছয় ভাইবোনের মধ্যে বড় হওয়ায় ছোটবেলা থেকেই দায়িত্ব নিতে হয় সংসারের। মাত্র তিন হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে তিনি শুরু করেছিলেন এই কাজ।
বর্তমানে ডিজিটাল ব্যানারের প্রচলন বাড়লেও কদর কমেনি হাতে আঁকা কাজের বরং অনেকেই তার কাজের স্বকীয়তা ও আন্তরিকতার জন্য বেছে নেন তাকে।
পার্বতীপুর প্রেস ক্লাবের আহ্বায়ক অধ্যাপক আতাউর রহমান বলেন, “স্বপন যেকোনো লেখা দেখে তাৎক্ষণিকভাবে রং-তুলিতে নিখুঁতভাবে তুলে ধরতে পারেন, যা তার কঠোর পরিশ্রম ও ইচ্ছাশক্তির ফল।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









