জাতীয় সংসদের হুইপ মো. আখতারুজ্জামান মিয়া বলেছেন, “আমরা সবাই মিলে একই জেলের বিছানায় থেকে, একই ভাত খেয়ে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছি। সুতরাং আমাদের দুর্বলতা ও ব্যর্থতার কারণে যদি সেই স্বৈরাচার আবার ফিরে আসে, তবে আমাদের বাঁচার কোনো রাস্তা থাকবে না। শুধু ১৭ বছর নয়, ৫১ বছরেও আপনারা ক্ষমতায় আসতে পারবেন না। এজন্য সকলকে ধৈর্য ধারণ করতে হবে; সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধভাবে থাকতে হবে। তা না হলে আমরা কাঙ্ক্ষিত স্থানে পৌঁছাতে পারবো না।”
শুক্রবার (১ মে) দুপুরে দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার ৯টি শ্রমিক সংগঠনের যৌথ আয়োজনে খানসামা সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
হুইপ বলেন, “যারা ফেসবুকে ফেক অ্যাকাউন্ট খুলে অপপ্রচার চালায়, তারা জারজ সন্তানের অধিক। এই যে ফেসবুক—এই ফেসবুক আজ জাতিকে ধ্বংস করছে। ফেসবুকে যারাই অপপ্রচার চালাক না কেন, তারা নিকৃষ্ট। তারা আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে জড়িয়ে, তার মেয়েকে জড়িয়ে, পিতাকে ধর্ষণকারী বানিয়েছে। কোনো মেয়ের পিতা কি ধর্ষণকারী হতে পারে? অথচ বট বাহিনীরা এটাই করেছে। ভোটের আগে মিথ্যা তথ্য দিয়ে, মিথ্যা প্রচার চালিয়ে বটবাহিনীর মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করা হয়েছে।”
তিনি আরো বলেন, “অবশেষে সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা বলেছেন—আমারও দুটি মেয়ে আছে, প্রধানমন্ত্রীরও মেয়ে আছে। প্রধানমন্ত্রীর মেয়ে মানে আমাদেরও মেয়ে। অতএব, যারাই এই নিকৃষ্ট কাজ করেছেন, তাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে।”
তিনি আরও বলেন,“যারা ফেসবুকে ফেক আইডি খুলে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছেন, তারাই এই দেশের সর্বনাশ করতে চায়। যারা রাজনৈতিক নেতাদের চরিত্রহনন করছেন, তাদের অবশ্যই শাস্তির আওতায় আনতে হবে; তা না হলে তারা দেশকে ধ্বংস করে দেবে।”
আখতারুজ্জামান মিয়া বলেন, “আমি যদি কোনো দোষ করে থাকি, তাহলে দোষের কথা বলেন—আমাকে আমার দোষের কথা বলেন। কিন্তু আমি যদি কোনো মহিলার কাছে না যাই, সেই মহিলার ছবি ব্যবহার করে সমাজের কাছে, জাতির কাছে আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করা—এটা হতে দেওয়া হবে না।”
অনুষ্ঠানে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও উপজেলা বিএনপির সদস্য সফিকুল আলমের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির অর্থ-বিষয়ক সম্পাদক রবিউল আলম তুহিন, উপজেলা বিএনপির সদস্য ছাঈয়েদ আহমেদ সেলিম বুলবুল, সাবেক জেলা পরিষদ সদস্য শরিফুল ইসলাম প্রধানসহ ৯টি শ্রমিক সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকগণ।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









