টানা কয়েকদিনের ভারী বর্ষণে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি-দীঘিনালা প্রধান সড়কের বিভিন্ন অংশে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে করে পাহাড়ি এই জনপদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যমটি এখন চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। প্রতিদিন শত শত যানবাহন চলাচল করলেও সড়কের বর্তমান অবস্থা নিয়ে দেখা দিয়েছে আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের একাধিক স্থানে আংশিক ধস নেমে গেছে। কোথাও সড়কের অর্ধেক অংশ বিলীন হয়ে খাদে পরিণত হয়েছে, আবার কোথাও বড় বড় গর্ত তৈরি হয়ে যান চলাচলের জন্য বিপজ্জনক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে পাহাড়ি ঢাল ঘেঁষা অংশগুলোতে ভাঙনের মাত্রা বেশি, যেখানে সামান্য অসাবধানতাই বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
এছাড়াও পাহাড় থেকে নেমে আসা ঢালো পানির তীব্র স্রোত, অপরিকল্পিত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং দুর্বল নির্মাণ কাঠামোর কারণে প্রতিবছরই বর্ষা মৌসুমে এই সড়কের একই অবস্থা তৈরি হয়। বর্ষা এলেই ভাঙন, আর বর্ষা শেষ হলেই সাময়িক সংস্কার এ যেন বছরের পর বছর ধরে চলতে থাকা এক চক্র।
স্থানীয় বাসিন্দা ও যাত্রীদের অভিযোগ, সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) যে সংস্কার কাজ করে, তা কেবল দায়সারা। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ভাঙা অংশে সামান্য মাটি বা ইট ফেলে চলাচলের উপযোগী করা হয়, যা পরবর্তী বৃষ্টিতেই আবার ধসে পড়ে। ফলে সমস্যার মূল কারণ থেকে যায় অমীমাংসিত।
স্থানীয় মোটরবাইক চালক মো শামীম বলেন, বর্ষা মৌসুমে এই সড়কে গাড়ি চালানো মানেই জীবনের ঝুকি নিয়ে পথচলা। একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তার অবস্থা খারাপ হয়ে যায়। রাস্তার বিভিন্ন অংশ ভেঙে পাথর, কংক্রিট রাস্তায় বিলিয়ে থাকে, যা আমাদের জন্য অতি বিপজ্জনক।
দূরপাল্লা থেকে আসা ট্রাক চালক শাহআলম বলেন, আমি প্রায়শ বাঘাইছড়ি আসি কাঠ নিতে। আমি দেখি প্রতিবারই নামমাত্র মেরামত করা হয়, যা মূল সমস্যার সমাধান না করে কেবল সাময়িক স্বস্তি দেয়। এটা যেন ক্ষত স্থানে মলম লাগানোর মতো।
স্থানীয়দের মতে, পাহাড়ি এলাকায় সড়ক নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণে আধুনিক প্রকৌশল পদ্ধতি যেমন, উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ, এবং পানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রণের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে এ ধরনের সমস্যা বারবার ফিরে আসবে।
এদিকে বাঘাইছড়ি-দীঘিনালা সড়কটি শুধু স্থানীয়দের জন্য নয়, পার্বত্য অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, শিক্ষা ও চিকিৎসা সেবার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সড়কের এই নাজুক পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদে এলাকার সামগ্রিক উন্নয়নকে ব্যাহত করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে পাহাড়ি এলাকার বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে সড়কটির স্থায়ী ও টেকসই সংস্কারে কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ এবং দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জোরালো হচ্ছে। অন্যথায় প্রতি বর্ষা মৌসুমে একই সমস্যা পুনরাবৃত্তি হয়ে জনদুর্ভোগ আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









