মানিকগঞ্জ জেলার সিংগাইর উপজেলার গোলাইডাঙ্গা থেকে বাঙ্গালা বাজার পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটার সড়কের করুণ অবস্থা এখন এলাকাবাসীর নিত্যদিনের দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে সড়কটির বিভিন্ন স্থানে ভাঙাচোরা ও বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে, ফলে স্বাভাবিক যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
জামশা, গোলাইডাঙ্গা,গোলাই-মাটিকাটা সহ কয়েকটি গ্রামের জনসাধারণের মানিকগঞ্জ যাতায়াতের একমাত্র সহজ ও প্রধান এ রাস্তাটি এখন তৈরি হয়েছে মরণফাঁদে।
এলজিইডি'র তথ্যমতে -২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৩ কোটি ১৩ লাখ টাকায় "মেসার্স নির্মান প্রকৌশলী" নামে একটি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান রাস্তাটির কাজ শুরু করে। চুক্তি অনুযায়ী ২০২৪ সালের মাঝামাঝিতে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও অনিয়মের অভিযোগে বিষয়টি দূর্নীতি দমন কমিশন পর্যন্ত গড়ায়।বন্ধ হয়ে যায় কাজ।
সিংগাইর উপজেলা এল.জি.ইডি প্রকৌশলী মোঃ আশরাফুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান- ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রাস্তার কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করায় কাজটি বন্ধ হয়ে যায়। একাধিকবার কাজ শুরু করতে বললেও তারা কাজ শুরু করেনি।ফলে টেন্ডারটি বাতিল করার প্রক্রিয়া চলমান আছে।বাতিল হয়ে গেলে আবার রি-টেন্ডারের মাধ্যমে নতুন করে কাজ শুরু হবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কের গর্তগুলোতে পানি জমে ছোট ছোট জলাশয়ের সৃষ্টি হয়। এতে করে যানবাহন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে এবং পথচারীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি বেশি হচ্ছে। মোটরসাইকেল, অটোরিকশা ও
ভ্যানচালকদের সবচেয়ে বেশি কষ্ট পোহাতে হচ্ছে। অনেক সময় গর্তে পড়ে দুর্ঘটনাও ঘটছে। বৃষ্টির সময় কাদা ও পানির কারণে সড়কটি প্রায় অচল হয়ে পড়ে।অন্যদিকে শুষ্ক মৌসুমে প্রচুর ধুলো' আর ঝাঁকুনি'র কারনে রাস্তায় চলাচলে সমস্যা হয় এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়ে যায়।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সময়ের মধ্যে গোলাইডাঙ্গা-বাঙ্গালা বাজার সড়কটি সংস্কার করা না হলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বৃদ্ধি পাবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









