নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় স্কুল ফিডিং প্রকল্পের আওতায় শিক্ষার্থীদের মাঝে পচা ডিম ও নিম্নমানের কলা সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার (৪ মে) দুপুরে উপজেলার পুষনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের পচা ডিম দেওয়ার কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এর আগে গত বৃহস্পতিবারও ওই বিদ্যালয়ে পচা ডিম সরবরাহ করা হয়েছিল বলে জানা যায়।
জানা গেছে, শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত ও বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বাড়াতে সরকারের উদ্যোগে স্কুল ফিডিং প্রকল্প চালু করা হয়েছে।
এ প্রকল্পের আওতায় উপজেলার ১৭৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ২১ হাজার ৩৩৪ জন শিক্ষার্থী অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে অভিযোগ রয়েছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের নিম্নমানের ও অস্বাস্থ্যকর খাবার সরবরাহ করছে।
অভিভাবক ও এলাকাবাসীর দাবি, শুধু পুষনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নয়—উপজেলার আরও কয়েকটি বিদ্যালয়েও একই ধরনের পচা ও নিম্নমানের খাবার দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি একাধিকবার শিক্ষা কর্মকর্তাদের জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ তাদের।
স্থানীয় অভিভাবক মনোয়ার হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীদের খাবারের সঙ্গে এমন পচা ও নিম্নমানের খাবার দিলে তারা অসুস্থ হয়ে পড়বে। সরকার যেখানে পুষ্টি নিশ্চিত করতে প্রকল্প নিয়েছে, সেখানে এ ধরনের অনিয়ম দুঃখজনক।
আরেক অভিভাবক সালমা বেগম বলেন, “সন্তানদের এমন পচা খাবার দেওয়ার চেয়ে না দেওয়াই ভালো। এসব খাবার খেলে শিশুরা অসুস্থ হয়ে যাবে।
এ বিষয়ে পুষনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোর্শেদা বেগম জানান, শিক্ষার্থীদের জন্য আনা ডিম বিতরণ করা হলেও খাওয়ার সময় অনেক ডিম পচা বলে শনাক্ত হয়। পরে সেগুলো ফেরত নেওয়া হয়েছে এবং সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ডা. মাহমুদা বেগম বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। পচা ডিম সরবরাহ করা গুরুতর অপরাধ। এ বিষয়ে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলতে হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









