বরিশালে বহুল আলোচিত সানজিদা কবির আনিতা হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্ত প্রেমিক মাইনুল ইসলাম হিমুকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৮। হত্যাকাণ্ডের পর দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকলেও শেষ পর্যন্ত র্যাবের বিশেষ অভিযানে ধরা পড়েন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকালে বরিশালের উজিরপুর উপজেলার ইচলাদী টোলঘর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে দুপুরে র্যাব-৮ সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত মাইনুল ইসলাম হিমু (৩২) ঝালকাঠি সদর উপজেলার কাঠপট্টি এলাকার গোলাম মোর্শেদ জিলানী ওরফে মিল্টন আকনের ছেলে। তিনি তার মা ফাতেমা বেগম চিনুর সঙ্গে বরিশাল নগরীর অক্সফোর্ড মিশন প্রাইমারি স্কুল সংলগ্ন রাফী মঞ্জিলের একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
র্যাব জানায়, নিহত সানজিদা কবির আনিতার (২১) সঙ্গে মাইনুল ইসলামের প্রায় দুই বছরের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গত ২৩ এপ্রিল সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আনিতা বাসা থেকে বোনের বাড়ি যাওয়ার কথা বলে বের হন। এরপর থেকে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরিবারের সদস্যরা তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
একপর্যায়ে স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পর জানতে পারেন, আনিতা মাইনুল ইসলামের বাসায় রয়েছেন। খবর পেয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি মডেল থানার সদস্যরা নগরীর রাফী মঞ্জিলের ষষ্ঠ তলার ওই বাসায় অভিযান চালান। সেখানে খাটের ওপর জখমযুক্ত অবস্থায় আনিতার নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার পর নিহত আনিতার বোন বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
র্যাব আরও জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্ত হিমু অত্যন্ত কৌশলে এলাকা ত্যাগ করে আত্মগোপনে চলে যান। গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি বারবার অবস্থান পরিবর্তন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেন। পরে গোয়েন্দা তথ্য ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৮ অভিযান চালিয়ে উজিরপুরের ইচলাদী টোলঘর এলাকা থেকে তাকে আটক করতে সক্ষম হয়।
গ্রেপ্তারকৃত মাইনুল ইসলাম হিমুকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব-৮।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









