ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। আবেগঘন এ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে বিচারহীনতার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন হাদির বোন মাসুমা হাদি। তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তদন্তে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি, বরং বারবার পেছানো হয়েছে তদন্ত কার্যক্রম।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) দুপুরে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থী অংশ নেন।
পরে শিক্ষার্থীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও সংলগ্ন মহাসড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় প্রধান ফটকে এসে শেষ হয়। এ সময় “হাদি হত্যার বিচার চাই”, “বিচারহীনতার অবসান হোক”সহ বিভিন্ন স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো ক্যাম্পাস।
সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে মাসুমা হাদি বলেন, ‘‘আমার ভাই শরীফ ওসমান হাদি ইনসাফ প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করেছিল। মানুষের অধিকার, ন্যায়বিচার ও একটি বৈষম্যহীন সমাজের স্বপ্ন দেখতেন তিনি। ইন্টেরিম গভর্নমেন্টকে টিকিয়ে রাখতে রাজপথে সক্রিয় ছিলেন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে সেই সরকারের আমলেই দিনের আলোতে আমার ভাইকে হত্যা করা হয়।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘হাদি হত্যার বিচার দাবিতে সাধারণ মানুষ যখন আন্দোলনে নেমেছে, তখন তাদের বিরুদ্ধে নির্বাচন বানচালের অপচেষ্টার অভিযোগ তোলা হয়েছে। অথচ আজও আমরা কেবল ন্যায়বিচার চাইছি। এখন দেশে নির্বাচিত সরকার রয়েছে, কিন্তু সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কিংবা প্রধানমন্ত্রী, কেউ হাদি হত্যার বিচার নিয়ে কোনো বক্তব্য দিচ্ছেন না। এটা আমাদের জন্য গভীর হতাশার।’’
তদন্ত কার্যক্রম নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘‘এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ১৩ বার পেছানো হয়েছে। প্রতিবারই নতুন আশ্বাস দেওয়া হয়, কিন্তু বিচার আর এগোয় না। আমরা পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, যতদিন পর্যন্ত হাদি হত্যার সুষ্ঠু বিচার না হবে, ততদিন আমরা রাজপথ ছাড়বো না।’’
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখা শিক্ষার্থীরা বলেন, একটি আলোচিত হত্যাকাণ্ডের বিচার দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা দেশের বিচারব্যবস্থা ও আইনের শাসন নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি করছে। তারা অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত সম্পন্ন করে জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।
সমাবেশ শেষে শিক্ষার্থীরা হাদি হত্যার বিচার দাবিতে নতুন কর্মসূচিরও ইঙ্গিত দেন। আন্দোলনকারীরা বলেন, বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









