গিলাফ চড়ানোর মধ্য দিয়ে সিলেটে শুরু হয়েছে হজরত শাহজালাল (রহ.)–এর মাজারে ৭০৭তম বার্ষিক ওরস।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকাল থেকেই মাজারে ভক্ত-আশেকানের ঢল নেমেছে। তারা গিলাফ নিয়ে দলে দলে মাজারে প্রবেশ করছেন। এসময় ‘লালে লাল, বাবা শাহজালাল’ স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে মাজার এলাকা।
শুক্রবার (৮ মে) ভোরে আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে দুই দিনব্যাপী এই ওরস।
এদিকে, ওরস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে উপহার হিসেবে পাঠানো একটি গরু মাজার কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। এ ছাড়া প্রথা অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে বুধবার (৬ মে) বিকেলে মাজারে গিলাফ চড়ানো হয়েছে।
ভক্ত-অনুরাগীরা বলেন, বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ-সংঘাত বন্ধ এবং সম্প্রীতি-সৌহার্দ্য বৃদ্ধিতে হযরত শাহজালাল (রহ.) এর আদর্শ সমাজে ছড়িয়ে দেওয়া সময়ের দাবি।
মাজারের খাদেম শামুন মাহমুদ খান জানান, সকালে গিলাফ চড়ানোর মধ্য দিয়ে ওরসের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে।
ওরসে শতাধিক গরু ও খাসি দান হিসেবে পাওয়া গেছে। শুক্রবার রাতে আখেরি মোনাজাত শেষে শিরনি বিতরণের মধ্য দিয়ে দুই দিনব্যাপী ওরসের সমাপ্তি হবে। মোনাজাত পরিচালনা করবেন দরগাহ মাজার মসজিদের মোতোয়ালি ফতেউল্লাহ আল আমান।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের গণমাধ্যম কর্মকর্তা মো. মঞ্জুরুল আলম বলেন, “ভক্ত-অনুরাগীদের নিরাপত্তায় পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”
উল্লেখ্য, হযরত শাহজালাল ইয়েমেনি (রহ.) ছিলেন উপমহাদেশের একজন প্রখ্যাত সুফি সাধক ও ইসলাম প্রচারক। তাঁর জন্ম ইয়েমেনে বলে ধারণা করা হয়। তিনি আধ্যাত্মিক সাধনা ও ইসলাম প্রচারের উদ্দেশে ভারতীয় উপমহাদেশে আগমন করেন। ১৩০৩ খ্রিস্টাব্দে তিনি সিলেটে আসেন এবং স্থানীয় রাজা গৌর গোবিন্দের বিরুদ্ধে সংগ্রামে অংশ নেন। বিজয়ের পর তিনি সিলেটে ইসলাম প্রচার ও মানবসেবায় আত্মনিয়োগ করেন। তিনি অসংখ্য মানুষকে ইসলামের পথে আহ্বান করেন এবং সমাজে নৈতিকতা ও শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দেন। সিলেটে তাঁর দরগাহ আজও একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক স্থান। সারাবছর দেশ-বিদেশ থেকে বহু মানুষ এখানে জিয়ারত করতে আসেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









