বাসের হর্ন দেওয়াকে কেন্দ্র করে বরিশাল নগরীর নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বিএম কলেজ ছাত্রদলের নেতাকর্মী ও পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে দফায় দফায় চলা এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত চারজন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (৮ মে) সন্ধ্যার পর এই ঘটনা ঘটে। এতে টার্মিনাল এলাকায় দীর্ঘ সময় যান চলাচল বন্ধ থাকে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সন্ধ্যা ৭টার দিকে নথুল্লাবাদ টার্মিনাল সংলগ্ন একটি পাম্পে ‘বিএমএফ পরিবহন’-এর একটি বাস জ্বালানি নিচ্ছিল। এ সময় বাসের চালক মো. রাজা সামনে থাকা একটি মোটরসাইকেলকে সরে যাওয়ার জন্য বারবার হর্ন দেন। এতে মোটরসাইকেল আরোহী বিএম কলেজ ছাত্রদল নেতা কায়সারের সঙ্গে চালকের তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে উভয়ের মধ্যে হাতাহাতির উপক্রম হয়।
অভিযোগ উঠেছে, এই ঘটনার জেরে কিছুক্ষণ পর বিএম কলেজ ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনালে প্রবেশ করে। তারা সেখানে কয়েকটি বাসে ভাঙচুর চালায় এবং বাসচালক রাজাসহ শ্রমিকদের ওপর হামলা করে। মুহূর্তের মধ্যে পুরো টার্মিনাল এলাকায় সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। শ্রমিকরাও পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুললে শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। এতে ছাত্রদলের দুই কর্মী এবং চালক রাজাসহ মোট ৪ জন আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বিএমএফ পরিবহনের বরিশাল পরিচালক এম আর নয়ন বলেন, “তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা সংঘবদ্ধভাবে এসে বাস টার্মিনালে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে। এতে আমাদের বেশ কয়েকটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং চালক আহত হয়েছেন। পরে বাস মালিক গ্রুপের নেতারা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।”
অন্যদিকে বিএম কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ওয়ালিদ বিন ইসলাম জানান, শ্রমিকদের সঙ্গে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের খবর পেয়েছি। এতে আমাদের কর্মীরাও আহত হয়েছে। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।
বরিশাল বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “এক ছাত্র ও বাসচালকের বাকবিতণ্ডার জেরে ছাত্ররা মিছিল নিয়ে এসে টার্মিনালে একটি বাস ভাঙচুর করে। এতে ছাত্র কায়সার ও চালক রাজা আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।”
এই ঘটনার পর থেকে নথুল্লাবাদ এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। শ্রমিক ও মালিক পক্ষ এই হামলার বিচার দাবি করেছেন, অন্যথায় কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









