চুয়াডাঙ্গার প্রত্যন্ত গ্রাম রামনগরের নোয়াখালী রোজ এন্ড গার্ডেনে প্রবেশ করতেই প্রাকৃতিক মনোরম পরিবেশে মন ভরে যায়। চারদিকে ফুলের সমারোহ সব প্রকৃতি প্রেমীকে আকৃষ্ট করে। বর্তমানে এ বাগানের সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে তুলেছে রং বেরঙের বাহারি ফুলে। স্যোশাল মিডিয়ায় ব্যাপক ভাইরালের পর প্রতিদিনই দর্শনার্থীরা ভিড় করছেন বাগানের এমন সৌন্দর্যে হারিয়ে যেতে।
২০২৩ সালে প্রথমে ৩ বিঘা জমিতে গোলাপ, জারবারা, জীপসি, মম সহ বিভিন্ন ধরণের ফুলের চাষ শুরু করেন চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলার রামনগর গ্রামের দুই তরুণ পলাশ ও সাকিল। তিন মাস আগে ২ বিঘা জমিতে আরও বপণ করেন বিভিন্ন জাতের বাহারী ফুলের বীজ। সৃজনশীলতা এবং পরিশ্রমের ফলেই বাগানটি ভরে উঠেছে নানা প্রজাতির ফুলের সমাহারে। নোয়াখালী রোজ এন্ড গার্ডেন বাগানটি এখন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং মানুষের সৃজনশীলতার এক অপূর্ব মিলনস্থল, যা সত্যিই একটি স্বর্গোদ্যান বা ফুলের রাজ্যের মতো পরিবেশ তৈরি করেছে।

কৃষি উদ্দ্যোক্তা সাকিল জানান, প্রথমে ২ বিঘা জমিতে সল্প পরিসরে ফুলের বাগান তৈরী করি। পরবর্তী আরও ৩ বিঘা জমিতে এর পরিসর বাড়ায়। এখন আমি সফল। প্রতিদিন দুর-দুরান্ত থেকে শত শত নানান বয়সী বিভিন্ন শ্রেণী পেশার দর্শনার্থীরা আসেন এখানে। তারা সবাই ফুলের বাগান ঘুরে দেখেন। কেই তোলেন ছবি, কেউ বা করেন টিকটক। সোশ্যাল মিডিয়ার জন্য ভিডিওর পাশাপাশি ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করছেন সবাই।
আবদুল্লা আল মামুন নামে এক দর্শনার্থী বলেন, বাগানের সৌন্দর্য উপভোগ করতে এসেছি। যেন এক স্বর্গোদ্যান।
নোয়াখালী রোজ এন্ড গার্ডেনে মেহেরপুর থেকে ঘুরতে যাওয়া শাহনাজ পারভীন বলেন, কয়েক দিন আগে একবার এসেছিলাম। ফুলগুলো যা সুন্দর! গোলাপগুলো অনেক বড় বড়। ইচ্ছা করেছিল ছিঁড়ে নিয়ে যায়। কিন্তু ফুল তো গাছেই সুন্দর, তাই আর হাত দিইনি। শুধু ছবি তুলেছি। আবারও এসেছি ফুলগুলো দেখতে। ফুলের সমারোহ ও সৌন্দর্য দেখে আমি মুগ্ধ।

চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মাসুদুর রহমান সরকার জানান, এ ধরণের ফুলের বাগান মানসম্মত ভাবে বাড়াতে পারলে এ এলাকার মানুষের মানুষিক স্বাস্থ্য ভালো থাকার পাশাপাশি বেকার যুবকরা পাবে কর্মসংস্থান, সেইসাথে অর্থনীতির চাকা অনেকটা গতিশীল হবে। এ ধরণের উদ্যোগতাদের কৃষি সম্প্রাসরণ অধিদপ্তর সহায়তা করে আসছে।
তিনি আরও জানান, জেলায় চলতি মৌসুমে ৪ উপজেলায় ৫৯ হেক্টর জমিতে ফুলের চাষ হয়েছে, যার বাজার মুল্যে প্রায় ৫ কোটি টাকা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









