নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সিএস রেকর্ডীয় মালিকের ওয়ারিশের সাথে নামের মিল থাকার সুযোগ নিয়ে ২৬ শতাংশ জমি আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে লোকমান ও তার বাহিনীর বিরুদ্ধে। উপজেলার দাউদপুর ইউনিয়নের টেকদাসের দিয়া মৌজায় পৈত্রিক ও ক্রয়সূত্রে পাওয়া জমি রক্ষায় এবং ভূমিদস্যুদের হয়রানি থেকে বাঁচতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী কৃষক ও তার পরিবার। ১০ মে রবিবার দুপুরে পূর্বাচলের সমু মার্কেট এলাকায় সাংবাদিকদের সামনে এই আর্তনাদ তুলে ধরেন ভুক্তভোগী কৃষক হানিফা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে হানিফা জানান, টেকদাসের দিয়া মৌজায় আরএস ১০৬ নং দাগের ২৬ শতাংশ জমির প্রকৃত মালিক তারা। তার পিতা সাহাজদ্দিন এবং দাদা আমির উদ্দিন ওরফে উমর উদ্দিন সিএস রেকর্ডীয় মালিকের ওয়ারিশদের কাছ থেকে এই জমি ক্রয় করেন। পরবর্তীতে এসএ ও আরএস রেকর্ডসহ যাবতীয় পর্চায় তাদের নাম বৈধভাবে অন্তর্ভুক্ত হয় এবং দীর্ঘদিন ধরে তারা এই জমিতে কৃষিকাজ ও ভোগদখল করে আসছেন।
তবে বিপত্তি বাধে স্থানীয় ভূমিদস্যু হিসেবে পরিচিত লোকমানের বাবার নামের সাথে। লোকমানের বাবার নামও আমির উদ্দিন। নামের এই মিলকে পুঁজি করে লোকমান ও তার সহযোগীরা ভুক্তভোগী কৃষকের জমি জবরদখলের পাঁয়তারা শুরু করেছে। তারা অত্যন্ত সুকৌশলে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে মিস-মোকদ্দমা দায়ের করেছে, যা প্রকৃত জমি মালিককে আইনি ও মানসিকভাবে হয়রানির শামিল।
ভুক্তভোগী কৃষক হানিফা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমার দাদার নাম আমির উদ্দিন ওরফে উমর উদ্দিন। আর লোকমানের বাবার নাম শুধু আমির উদ্দিন। স্রেফ নামের আংশিক মিল থাকার সুযোগ নিয়ে তারা আমাদের বৈধ জমি হাতিয়ে নিতে চাইছে। ভূমিদস্যু লোকমান ও তার বাহিনীর অত্যাচারে আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, লোকমান গংরা এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় প্রশাসনকে ভুল বুঝিয়ে এবং ছলচাতুরীর মাধ্যমে নিরীহ কৃষকের সম্পদ গ্রাস করতে চায়। এই হয়রানি থেকে মুক্তি এবং পৈত্রিক সম্পত্তি রক্ষায় তারা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত পরিবারের অন্যান্য সদস্য ও স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ অবিলম্বে তদন্ত সাপেক্ষে জালিয়াতি চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানান।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









