কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় হঠাৎ করেই ডিএপি ও ইউরিয়া সারের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। খরিফ-১ (বর্ষাকালীন) মৌসুমের পাট ও সবজি আবাদে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা ঠিক এমন সময় সারের বাড়তি দাম কৃষকদের দুশ্চিন্তা বাড়িয়ে দিয়েছে কয়েকগুণ।
উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সরকারি মূল্য খুচরা পর্যায়ে ইউরিয়া সারের দাম ১৩৫০ ও ডিএপি সার ১০৫০ টাকা নির্ধারিত থাকলেও উপজেলার বিভিন্ন বাজারে ইউরিয়া সার বিক্রি করছেন ১৫৫০থেকে ১৬২০ টাকা ও ডিএপি সার ১৬৩০ থেকে ১৭৫০ টাকা দরে।
কৃষক স্বপন হোসেন জানান, পাট আবাদ করতে এখন সার প্রয়োজন। কিন্তু হঠাৎ দাম বেড়ে যাওয়ায় পাট উৎপাদনের খরচ বেড়ে যাবে। কৃষকের অবস্থা এমনিতেই ভালো না, তার ওপর সারের এই দাম বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।
নাম প্রকাশ না করা শর্তে এক কৃষক বলেন, “আমি ৪ বিঘা পাট রোপন করেছি।ডিলারের কাছে জানালে বলে ডিএপি সার নেই এখন ২০ কেজি ইউরিয়া সার নিয়ে যান। পরে উপায় না পেয়ে, বেশি দাম দিয়েই কিনতে হয়েছে বাইরে থেকে।”
উপজেলার হোগলবাড়িয়া ইউনিয়নের কৃষক রাজিবুল বলেন, “বৃষ্টির পরে পাটে সার দেওয়ার জন্য এলাকার দোকানে সার কিনতে গেলে ইউনিয়া সার ৩২ টাকা কেজি নেয়। বাধ্য হয়ে কিনতে হয় আমাকে।”
এদিকে পিয়ারপুর ইউনিয়নের আরেক কৃষক মহন হোসেন বলেন, “দীর্ঘ খরার পর বৃষ্টির কারণে পাট উৎপাদনে সারের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। মৌসুমের শুরুতে সারের বাজার নিয়ন্ত্রণে না আনলে কৃষকরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। পাট উৎপাদন খরচও বাড়বে যা আমাদের মত নিম্ন আয়ের কৃষকদের জন্য এটি আরও বড় সংকট তৈরি করবে।”
খুচরা সার ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাড়তি দামে সার কিনতে হচ্ছে। ফলে তারাও বাধ্য হয়ে বেশি দামে বিক্রি করছেন। তবে কয়েকজন ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, কৃত্রিম সংকট তৈরি করে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বাড়তি মুনাফা করার চেষ্টা করছে। আর কৃষি অফিসের উদাসীনতায় সারের দাম বেশি হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, এখন থেকেই উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি অফিসের সম্মিলিত উদ্যোগে সারের বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে সামনে কঠিন সময় পার করতে হবে কৃষকদের। অসাধু ব্যবসাহীরা তৈরি করতে পারে কৃত্রিম সংকট।
দৌলতপুর উপজেলা কৃষি অফিসার রেহেনা পারভিন এদিনকে জানান, সারের কোনো সংকট নেই। প্রতি মাসেই চাহিদা অনুযায়ী সার পাচ্ছে ডিলাররা। বাজার পরিস্থিতি নজর দারিতে রাখা হয়েছে। কোথাও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









