গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার রাউতকোনা গ্রামের ভয়াবহ পাঁচ খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত ফোরকান মিয়াকে নিয়ে নতুন নতুন তথ্য দিচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ঘটনার আগের রাতেও তাকে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে দেখা গেছে। তখন তার কোলে ছিল ছোট মেয়ে, সঙ্গে ছিল আরেক কন্যাসন্তান।
স্থানীয় এক দোকানি জানান, শুক্রবার রাতে ফোরকানকে সড়ক দিয়ে হেঁটে যেতে দেখেছেন তিনি। তার কোলে ছোট মেয়ে ছিল এবং পাশে হাঁটছিল মাঝের মেয়েটি। দেখে কারও মনেই হয়নি, কয়েক ঘণ্টা পর এমন নির্মম একটি ঘটনা ঘটতে পারে।
আরেক দোকানি সুরমা আক্তার বলেন, রাত প্রায় ৯টার দিকে সাদা টি-শার্ট পরা ফোরকান ছোট মেয়েকে কোলে নিয়ে তার দোকানে আসেন। তিনি জানতে চান, “ভাবি, কিসমিস আছে?” পরে মেয়ের জন্য দুটি চিপস কিনে দেন। তার হাতে একটি কাপড়ের ব্যাগও ছিল।
সুরমা আক্তার জানান, ফোরকান নিয়মিত বাড়িতে থাকতেন না। তিন দিন কিংবা কখনো সাত দিন পরপর বাড়িতে আসতেন। তবে বাড়িতে এলেই ছোট মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে দোকানে আসতেন এবং তার জন্য খাবার কিনতেন।
তিনি বলেন, “যে মানুষটা মেয়েকে এত আদর করত, সে নিজের সন্তানদের জবাই করতে পারে-এটা এখনও বিশ্বাস করতে পারছি না। আমাদের কখনো মনে হয়নি, সে এমন নিষ্ঠুর কাজ করতে পারে।”
এদিকে, গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) মো. আশফাক জানান, নিহত শারমিন আক্তারের বাবা শাহাদাত মোল্লা বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনার রহস্য উদঘাটন এবং প্রধান আসামি ফোরকান মিয়াকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।
তিনি বলেন, “তদন্তের স্বার্থে এখনই বিস্তারিত কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সব ইউনিট ঘটনাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে।”
উল্লেখ্য, শনিবার (৯ মে) ভোরে কাপাসিয়ার রাউতকোনা গ্রামের একটি ভাড়া বাসা থেকে শারমিন আক্তার, তার তিন কন্যা সন্তান এবং ভাই রসুল মিয়ার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছেন গৃহকর্তা ফোরকান মিয়া।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









