বাগেরহাটের পূর্ব বনবিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের কটকা অভয়ারণ্য কেন্দ্রের কালামিয়া এলাকায় নদী থেকে বনদস্যু জাহাঙ্গীর বাহিনী শনিবার (১৭ জানুয়ারি) গভীর রাতে একটি ট্রলারসহ পাঁচজন জেলেকে অপহরণ করেছে এবং ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছে।
পূর্ব বনবিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. শরীফুল ইসলাম শেলারচরে ৫ জেলেকে অপহরণের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘কোষ্টগার্ডের সঙ্গে কথা বলে অপহৃত জেলেদের উদ্ধারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
অপহৃত জেলেরা হলেন, কচি (৪৫), হিরক (৩৫), সালাম (৪০), রবিউল (৩৫) ও মুজাহিদ (২৬)। তাদের বাড়ি বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার বাঁশতলী এলাকায়।
অপহৃত জেলেদের মহাজন ও পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের শেলারচরের মৎস্য ব্যবসায়ী রামপালের নুরুল হক শেখ রবিবার (১৮ জানুয়ারি) বিকেলে মুঠোফোনে এদিন প্রতিবেদককে জানান, শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১১টার দিকে ৮ জন জেলে কটকার কালামিয়া এলাকায় মাছ ধরছিলেন। এ সময় জাহাঙ্গীর বাহিনীর সশস্ত্র সদস্যরা একটি নৌকাযোগে এসে জেলেদের মারধর করে, পরে ৩ জনকে ট্রলার থেকে নামিয়ে পাঁচ জেলেকে নিয়ে যায়। এসময় তারা পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে একটি মোবাইল নম্বর দিয়ে যায়।
এরআগে ১০ জানুয়ারি (শনিবার) রাতে কটকার কালামিয়া এলাকা থেকে আবু হানিফ (৩২) ও খায়রুল ইসলাম (৩০) এবং বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাতে দুবলার আমবাড়ীয়া এলাকা থেকে আ. কাদের (৩৫) ও রবিউল মোল্লা (৩০) নামে চার জেলেকে অপহরণ করে বনদস্যু জাহাঙ্গীর বাহিনী।
অপহৃত জেলেদের মহাজন পাথরঘাটা উপজেলার পদ্মা স্লুইস এলাকার শহিদ নাজির জানান, কাদের ও রবিউল রবিবার (১৮ জানুয়ারি) সকালে এক লাখ ২০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দিয়ে ফিরে এসেছেন।
এ নিয়ে গত এক সপ্তাহে বনদস্যু জাহাঙ্গীর বাহিনীর হাতে ৯ জেলে অপহণের শিকার হয়েছেন।
অপরদিকে, গত ১০ জানুয়ারি অপহৃত দুই জেলের মহাজন শেলারচরের মৎস্য ব্যবসায়ী মো. মিজান বহদ্দার জানিয়েছেন, আবু হানিফ ও খায়রুল নামে তার দুই জেলেকে এক সপ্তাহেও মুক্ত করা সম্ভব হয়নি। জিম্মি থাকা জেলেদের ভাগ্যে কি ঘটেছে তাও জানা যায়নি। তবে দস্যুদের সাথে মুক্তিপণের বিষয়ে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক জেলে ও মহাজন জানান, সুন্দরবনের বর্তমান সময়ের সবচেয়ে দুর্ধর্ষ ও বড় দস্যুদল হচ্ছে জাহাঙ্গীর বাহিনী। এদের নির্যাতনে জেলেরা মাছ ধরতে যেতে ভয় পাচ্ছেন। অপহরণের পর জেলেদের মারধর ও দ্রুত মুক্তিপণ না দিলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এতে সুন্দরবনের জেলেদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
জেলে-মহাজনরা আরো জানান, দীর্ঘদিন সুন্দরবনে দস্যুদের কোনো উৎপাত ছিল না। গত এক-দেড় বছরে সুন্দরবনে নতুন নতুন দস্যুদল সৃষ্টি ও বেপরোয়া তাণ্ডব শুরু করেছে। এখন বনে যেতে তাদের ভয় চরম ভীতি কাজ করে। দস্যু দমনে কঠোর অভিযান না করা হলে তাদের দৌরাত্ম আরো বৃদ্ধি পাবে।
দস্যুদের কাছে জিম্মি থাকা জেলেদের উদ্ধার ও কার্যকর অভিযান পরিচালনার দাবি জানান মৎস্য সংশ্লিষ্টরা।
শরণখোলা রেঞ্জের জেলেপল্লী দুবলার বিশেষ টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেষ্ট রেঞ্জার মিল্টন রায় বলেন, সুন্দরবনে বনদস্যুদের দাপটে জেলেরা মাছ ধরতে পারছে না। দস্যুদের দমন করা না গেলে এ বছর দুবলার রাজস্ব আয়ের ঘাটতির আশঙ্কা রয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









