ভোলার চরফ্যাশনে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম, প্রভাব খাটিয়ে ব্যক্তিগত কাজ আদায় এবং অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা মোতাহার হোসেন আলমগীর মালতিয়ার বিরুদ্ধে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) অর্থায়িত প্রকল্পের টাকা দিয়ে নিজের বাড়ির উঠান ও প্রবেশপথ পাকা করা এবং সরকারি প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র ও স্থানীয়দের অভিযোগ, উপকূলীয় অঞ্চলের অবকাঠামো উন্নয়নে বাস্তবায়নাধীন সিটিসিআরপি প্রকল্পের আওতায় চরফ্যাশন পৌরসভায় বরাদ্দকৃত অর্থ থেকে ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ভদ্রপাড়া মালতিয়াবাড়ি সড়ক ও স্টেডিয়ামসংলগ্ন সংযোগ সড়কের কাজ অসম্পন্ন রেখে ঠিকাদারকে চাপ দিয়ে নিজের বাড়ির উঠান ও প্রবেশপথ পাকা করিয়েছেন আলমগীর মালতিয়া। ফলে সাধারণ মানুষের যাতায়াতের রাস্তাটি অসম্পূর্ণ থেকে যাওয়ায় চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে।
ঠিকাদার কাজী মনির হোসেন দাবি করেন, "স্টেডিয়াম সংলগ্ন সড়কের কাজ বন্ধ রেখে আমাকে দিয়ে জোরপূর্বক ব্যক্তিগত বাড়ির উঠান ও প্রবেশপথ পাকা করানো হয়েছে। এ কারণে আমি এখনো বিল পাইনি।"
এছাড়াও তাঁর বিরুদ্ধে চরফ্যাশন মডেল মসজিদের সীমানা প্রাচীরের গ্রিল অপসারণ করে ব্যক্তিগত ভবন নির্মাণের কাজ করা এবং তাঁর ছেলে আরাফাত রহমানের বিরুদ্ধে স্টেডিয়াম নির্মাণ প্রকল্পে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। তৎকালীন ইউএনও রাশনা শারমিন মিথি জানান, কাজ সম্পন্ন না করে বিল উত্তোলনের চেষ্টা করা হলেও তিনি তাতে স্বাক্ষর করেননি। পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শামিম হাসান নিশ্চিত করেছেন যে, নেতার বাড়ির অংশ পাকা করার কোনো টেন্ডার হয়নি, ঠিকাদারকে চাপ দিয়ে তা করানো হয়েছে।
বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আলমগীর মালতিয়া বর্তমানে দলের কেউ নন। ১৯৯২ সালে উপ-নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় তাঁকে বহিষ্কার করা হয়, যা এখনো বহাল রয়েছে। উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী মনজুর হোসেন বলেন, দল কোনো ব্যক্তির অপকর্মের দায় নেবে না।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে আলমগীর মালতিয়ার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ জানান, তিনি সদ্য যোগদান করেছেন এবং অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেবেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









