দেশে প্রায় সব পেশার সেবামূল্য নির্ধারিত থাকলেও আইনি সেবায় এখনো কোনো নির্দিষ্ট ফি বা কাঠামো না থাকায় সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
আদালতে আসা সেবাপ্রার্থীদের দাবি, যে সেবা স্বল্প টাকায় পাওয়ার কথা, তার জন্য অনেক সময় গুনতে হচ্ছে কয়েকগুণ বেশি অর্থ। এতে দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষ ন্যায়বিচার পাওয়ার আগেই আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছেন।
কুষ্টিয়া জজ কোর্টে আসা ভুক্তভোগী মানুষ ও কয়েকজন আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মামলার ধরন, পক্ষ ভেদ বা আইনজীবী ভেদে একই ধরনের সেবার জন্য ভিন্ন ভিন্ন ফি নেওয়া হচ্ছে। কোনো নীতিমালা না থাকায় কিছু অসাধু আইনজীবী এই সুযোগে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, চিকিৎসক, প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন পেশাজীবীদের সেবামূল্য নির্ধারিত থাকলেও আইনজীবীদের ক্ষেত্রে এমন কোনো কার্যকর নির্দেশনা না থাকায় সাধারণ মানুষ অনিশ্চয়তা ও শোষণের মুখে পড়ছেন। ফলে আইনি সেবা যেন ধনীদের নাগালে সীমাবদ্ধ হয়ে যাচ্ছে।
কুষ্টিয়া আদালত এলাকায় আইসক্রিম বিক্রেতা কামাল হোসেন বলেন, ‘‘প্রতিদিন শত শত মানুষের কান্না ও অসহায়ত্ব দেখেন তিনি। কেউ জমি বিক্রি করছেন, কেউ এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে মামলা পরিচালনার টাকা জোগাড় করছেন।’’
তিনি বলেন, “যদি নির্ধারিত ফি থাকত, তাহলে মানুষ অন্তত জানত কোন সেবায় কত টাকা লাগবে। এতে হয়রানি কমত।”
রহিমা নামে ৬০ বছর বয়সি এক নারী জানান, ছেলের জামিন করাতে তিনি ঋণ নিয়ে ৭০ হাজার টাকা দিয়েছেন। তবুও জামিন হয়নি, বরং দিনের পর দিন আদালতে ঘুরতে হচ্ছে।
আরেক ভুক্তভোগী সালমা খাতুন বলেন, ‘‘তার স্বামী একটি ছোটোখাটো মামলায় কারাগারে আছেন। তিন মাস ধরে তিনি আদালতে ঘুরছেন। একজন আইনজীবী ১৫ হাজার টাকা নিয়েও জামিন করাতে পারেননি। পরে আরেকজন ১০ হাজার টাকা দাবি করেছেন।’’
তিনি বলেন, “আমরা গরিব মানুষ। এত টাকা কোথায় পাব?”
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া জজ কোর্টের আইনজীবী মো. নুরুল ইসলাম নুরুল বলেন, ‘‘আইনজীবীদের নিয়ন্ত্রণকারী সর্বোচ্চ সংস্থা বাংলাদেশ বার কাউন্সিল। বর্তমানে আইনজীবীদের ফি নির্ধারণ করে দেওয়ার সুনির্দিষ্ট কোনো বিধান নেই। তবে জনভোগান্তি কমাতে বার কাউন্সিল যদি মামলাভিত্তিক ন্যূনতম ও সর্বোচ্চ ফি নির্ধারণ করে দেয়, তাহলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ অনেকাংশে কমবে।’’
তিনি বলেন, “একই কাজ কেউ ৫ হাজার টাকায় করেন, কেউ ৫০ হাজার টাকা নেন, কেউ আবার ১ লাখ টাকাও নেন। এটা অবশ্যই নিয়ন্ত্রণে আনা দরকার। তবে এটি স্থানীয়ভাবে নয়, কেন্দ্রীয়ভাবে আইন বা বিধির মাধ্যমে করতে হবে।”
সচেতন মহলের মতে, আইনি সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে নির্ধারিত ফি কাঠামো সময়ের দাবি। এতে সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার পথ সহজ হবে এবং আদালত অঙ্গনে অনিয়মও কমবে। এ অবস্থায় দেশের সাধারণ মানুষ দ্রুত আইনি ফি নীতিমালা প্রণয়ন এবং বিষয়টিতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









