নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলায় রাতের আঁধারে ভেকু দিয়ে ফসলি কৃষিজমির মাটি কেটে পুকুর খনন করছে ও সরকারি রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত করে মাটি বিক্রির অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (১২ মে) ধারাবারিষা ইউনিয়নের পুয়ালসুরা পাটপাড়া মৌজায় সরেজমিনে দেখা যায়, ডাবল ভেকু ও ইঞ্জিনচালিত ট্রলির মাধ্যমে কৃষিজমির মাটি কেটে সরকারি রাস্তা নষ্ট করে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হচ্ছে।
একই ইউনিয়নের নাড়িবারি মোজাম্মেল হক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন তিন ফসলি জমি কেটে পুকুর খনন ও সরকারি রাস্তা নষ্ট করে মাটি বিক্রির অভিযোগও পাওয়া গেছে।
স্থানীয়দের দাবি, প্রভাবশালী মহলের অদৃশ্য ক্ষমতার বলয়ে এসব কর্মকাণ্ড চললেও কার্যকর প্রতিরোধ দেখা যাচ্ছে না প্রশাসনের পক্ষ থেকে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অপরিকল্পিতভাবে পুকুর খননের ফলে কৃষিজমি হ্রাস পাচ্ছে এবং বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠছে।
এলাকাবাসী জানান, গত বছর প্রশাসনের অভিযানে ওই পুকুর খনন বন্ধ হয়ে যায় এবং একাধিকবার জেল-জরিমানা করা হয়েছিল। তবে এবার প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো অভিযান না থাকায় জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধুমাত্র ধারাবারিষা নয়, মশিন্দা এলাকাতেও একইভাবে কৃষিজমির মাটি কেটে সরকারি রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত করা হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বাসিন্দা জানান, রাতভর ট্রলি চলাচলের কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও শিশু, বৃদ্ধদের ঘুমে ব্যঘাত ঘটছে। প্রতিবাদ করেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তারা।
এলাকাবাসীর দাবি, নির্বাচিত সরকার গঠনের পর পুনরায় ভেকু দিয়ে মাটি কাটার কার্যক্রম শুরু হয়। প্রশাসন অভিযান চালিয়ে ভেকু জব্দ করলেও কয়েক দিনের মধ্যেই সেগুলো মুচলেকার মাধ্যমে ছাড়িয়ে এনে আবারও মাটি কাটার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে প্রকাশ্যেই চলছে পুকুর খনন ও মাটি বিক্রির মহোৎসব।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার অধিকাংশ মাটি কাটার স্থানে “মিন্টু ভাইয়ের কাজ” বলে পরিচিতি রয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে মো. মিন্টু বলেন, “সরকারি কাজে মাটি দিচ্ছি। অন্য কোথাও মাটি বিক্রি হচ্ছে না।”
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা আফরোজ বলেন, “ফসলি জমি কেটে পুকুর খননের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান চলমান রয়েছে। আরও জোরদারভাবে অভিযান পরিচালনা করে কৃষিজমি রক্ষা করা হবে। সরকারি রাস্তা নষ্ট করে যারা মাটি বহন করছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









