সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

The Daily Adin Logo
The Daily Adin Logo

খাগড়াছড়িতে ‘সম্রাট ঝড়’

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৬ মে ২০২৬, ১০:১০ এএম

আপডেট: ১৬ মে ২০২৬, ১০:১০ এএম

খাগড়াছড়িতে ‘সম্রাট ঝড়’

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে ঘিরে খাগড়াছড়িতে জমে উঠছে কোরবানির পশুর হাট। আর এই হাটের সবচেয়ে বড় আকর্ষণে পরিণত হয়েছে বিশাল আকৃতির ষাঁড় ‘সম্রাট’। কুচকুচে কালো রঙ, মাথা ও শরীরের নিচে সাদা ছাপ, সুঠাম গঠন আর দানবীয় আকৃতির কারণে ইতোমধ্যেই এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে গরুটি।

খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলার শেঠ এগ্রো ফার্মস লিমিটেডে বিশেষ যত্নে লালন-পালন করা হয়েছে ফ্রিজিয়ান জাতের এই বিশাল ষাঁড়কে। খামার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সম্রাটের বর্তমান ওজন প্রায় ১ হাজার ১০০ কেজি অর্থাৎ এক টনেরও বেশি! এবারের কোরবানির বাজারে গরুটির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ লাখ টাকা।

খামারের কর্মচারী মো. ওয়ালি উল্লাহ বাবু জানান, জন্মের পর থেকেই সম্রাটকে আলাদা পরিচর্যায় বড় করা হয়েছে। কোনো ধরনের ক্ষতিকর ওষুধ বা রাসায়নিক ছাড়াই সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক খাদ্যে গরুটিকে লালন করা হয়েছে। বর্তমানে প্রতিদিন শুধু খাবার ও পরিচর্যাতেই খরচ হচ্ছে হাজার টাকার বেশি।

সম্রাটের খাবারের তালিকাও বেশ রাজকীয়। প্রতিদিন তাকে খাওয়ানো হয় কাঁচা ঘাস, খড়-ভুষি, ভুট্টা, বাঁধাকপি, মিষ্টি কুমড়া, ধানের কুঁড়া এবং চালের ভাত।

পাশাপাশি সকাল-বিকেল গোসল, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়। খামারের আরেক কর্মচারী জুলহাস মিয়া বলেন, গরুটিকে পরিবারের সদস্যের মতো করেই বড় করা হয়েছে। তাই এখন সম্রাট শুধু একটি গরু নয়, খামারের মূল কেন্দ্রবিন্দু।

শুধু সম্রাট নয়, খামারটিতে এ বছর কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে আরও ১৭টি ষাঁড়, ৩টি মহিষ, ৩টি পাহাড়ি গয়াল এবং কয়েকটি গাড়ল। খামারে বর্তমানে সাতজন কর্মচারী দিন রাত পশুগুলোর দেখভাল করছেন।

খামারের জিএম জানান, এখানে ফ্রিজিয়ান, শাহীওয়াল, ব্রাহামা-শাহীওয়াল ক্রসসহ বিভিন্ন জাতের গরু রয়েছে। বেশ কয়েকটি গরুর ওজন ৮০০ থেকে ৯০০ কেজির মধ্যে। তবে সবার নজর কেড়েছে সম্রাট। আমরা খামার থেকে গরু বিক্রি করি। তবে আমাদের মূল সেলস সেন্টার চট্টগ্রামের কাজীর দেউড়ী।

খাগড়াছড়ি প্রাণিসম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, চলতি বছর জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা পূরণ করে আরও ৫ হাজারের বেশি পশু উদ্বৃত্ত থাকবে। প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের মতে, পাহাড়ি অঞ্চলে প্রাকৃতিকভাবে লালন-পালন হওয়ায় এখানকার গরুর মাংসের মান অনেক ভালো, তাই দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যবসায়ীরা আগেভাগেই গরু কিনতে ছুটে আসছেন।

মাটিরাঙ্গা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সোমেন চাকমা বলেন, পাহাড়ের গরুর একটি আলাদা বৈশিষ্ট্য হলো দেখতে হৃষ্টপুষ্ট হলেও এদের মাংসে চর্বি কম। কাঁচা ঘাস এবং শুকনো খড় এখানকার গরুর প্রধান খাবার। এ অঞ্চলের গরুতে রাসায়নিক কোনো কিছু ব্যবহার করা হয় না। তাই এখানকার গরুর মাংস শতভাগ নিরাপদ। ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই সম্রাটকে এক নজর দেখতে ভিড় বাড়ছে খামারে। এখন দেখার বিষয় শেষ পর্যন্ত কে হচ্ছেন এই ‘রাজকীয়’ ষাঁড়ের মালিক!

Advertisement
এদিনের সব

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো. সাইদুল ইসলাম সাজু
নির্বাহী সম্পাদক: খন্দকার মোজাম্মেল হক

শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস ২৮/বি, টয়েনলি সার্কুলার রোড, মতিঝিল-১০০০, ঢাকা থেকে মুদ্রিত

যোগাযোগ করুন

টাওয়ার-এ (২য় তলা), হাউস-১৩, রোড-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩।

০২-২২৬৬০৩৩৫২

০১৮৯৭-৬৬৪৬৫৬

ইমেইল : dailyadinbd@gmail.com

আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া

facebookyoutubetiktok

© স্বত্ব ২০২৬, দৈনিক এদিন

Design & Developed byBongosoft Ltd.