খাগড়াছড়ির গুইমারায় কৃষি উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন, পরিবেশ সংরক্ষণ ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে গতিশীল করতে বৃহৎ পরিসরে খাল পুনঃখনন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সরকার।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে “দেশব্যাপী খাল পুনঃখনন কর্মসূচি-২০২৬” এর আওতায় উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ তৈইমাতাই ও পিলাক খালের পুনঃখনন কাজ আগামী ২০ মে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সভাপতি ও সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়া। অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, কৃষক প্রতিনিধি, সুশীল সমাজ ও সাধারণ জনগণের অংশগ্রহণের কথা রয়েছে। এ আয়োজনকে ঘিরে ইতোমধ্যে গুইমারা জুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়িতব্য এ প্রকল্পের আওতায় মোট ৯.১ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করা হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। দীর্ঘদিন ধরে ভরাট ও অব্যবস্থাপনায় অকার্যকর হয়ে পড়া খাল দুটি পুনঃখননের ফলে গুইমারার কৃষি, মৎস্য ও পরিবেশ ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর খালগুলো ভরাট হয়ে থাকায় বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢলের পানি দ্রুত নিষ্কাশন হতে পারে না। ফলে জলাবদ্ধতায় ফসলি জমি, বসতঘর ও গ্রামীণ সড়ক ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ে। অন্যদিকে শুকনো মৌসুমে সেচ সংকটের কারণে কৃষকরা পর্যাপ্ত আবাদ করতে পারেন না। এমন বাস্তবতায় সরকার খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়ায় সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
হাফছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অংগ্যজাই মারমা বলেন, “খাল খননের ফলে বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা কমবে এবং প্রতি বছর হাফছড়িতে যে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় তা থেকে মুক্তি পাবে খাল পাড়ের জনগণ। একই সঙ্গে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।” শুষ্ক মৌসুমে কৃষি কাজে সেচ দিতে সহজ হবে বলেও আশা করেন তিনি।
প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পিলাক খাল পুনঃখননে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা। এতে ৪১৬ জন শ্রমিক কাজ করবেন। অন্যদিকে ৪.১ কিলোমিটার দীর্ঘ তৈইমাতাই খাল পুনঃখননে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৫৪ লাখ টাকা এবং এতে নিয়োজিত থাকবেন ৩৫৭ জন শ্রমিক।
স্থানীয় শ্রমিকদের অগ্রাধিকার দিয়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। কর্মরত প্রতিটি শ্রমিক দৈনিক ৫০০ টাকা হারে মজুরি পাবেন। ফলে প্রকল্পটি শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়নই নয়, গ্রামীণ অর্থনীতিতেও নতুন গতি সঞ্চার করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
গুইমারা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, “শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশের কৃষি উন্নয়ন ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে খাল খনন কর্মসূচি চালু করেছিলেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেই উদ্যোগকে আধুনিক পরিকল্পনার মাধ্যমে সারাদেশে পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নিয়েছেন।”
তিনি আরও বলেন, “খাল পুনঃখননের ফলে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত হবে, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর রক্ষা পাবে এবং মাছের প্রজনন ও উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। এতে স্থানীয় মৎস্য সম্পদের উন্নয়ন ঘটবে এবং কৃষকদের সেচ ব্যয়ও কমে আসবে।” ইতোমধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নের সব ধরনের কারিগরি ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলেও জানান তিনি।
গুইমারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মিসকাতুল তামান্না বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে গুইমারায় কৃষি বিপ্লব ও জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে কৃষকদের দীর্ঘদিনের সেচ সংকটের স্থায়ী সমাধান হবে এবং এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে।”
তিনি আরও বলেন, “স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করতে প্রশাসন বদ্ধপরিকর। এ কাজে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি।”


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









