বরিশাল বিভাগে ক্রমেই ভয়াবহ হয়ে উঠছে হামের প্রাদুর্ভাব। প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে বিভাগজুড়ে হাম উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২ জনে। এর মধ্যে ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
রবিবার (১৭ মে) সকালে হাসপাতাল পরিচালকের কার্যালয় বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
সবশেষ মারা যাওয়া শিশুটি পটুয়াখালী সদর উপজেলার বড় বিঘাই এলাকার বাসিন্দা মো. কাওসার হোসেনের সাত মাস বয়সী কন্যা নুসাইবা। শনিবার (১৬ মে) দিবাগত রাতে শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ৪২ জন রোগী, চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছেন ৬২ জন। বর্তমানে হাসপাতালটিতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১৯৬ জন রোগী।
রোগীর চাপ বাড়তে থাকায় হাসপাতালের বিদ্যমান তিনটি কক্ষে হাম আক্রান্তদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বেড সংকট দেখা দেওয়ায় কর্তৃপক্ষ নতুন করে আরও একটি বিশেষ হাম ওয়ার্ড চালু করেছে। একই সঙ্গে বরিশাল জেনারেল হাসপাতালেও হাম উপসর্গ নিয়ে রোগী ভর্তির সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে বলে জানা গেছে।
বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মো. লোকমান হাকিম বলেন, “মার্চ মাস থেকে বরিশাল বিভাগে হামের সংক্রমণ ব্যাপক আকার ধারণ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শিশুদের টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। আশা করছি দ্রুতই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে।”
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণের পাশাপাশি বাড়ানো হয়েছে পর্যবেক্ষণ ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম। বিশেষজ্ঞরা অভিভাবকদের শিশুদের সময়মতো হাম প্রতিরোধী টিকা দেওয়ার পাশাপাশি জ্বর, শরীরে র্যাশ বা শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









