কোস্ট গার্ডের বিশেষ অভিযান "অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড" ও "অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন" জোরদার করার পর সুন্দরবনের বনদস্যুরা ক্রমেই কোণঠাসা হয়ে পড়ছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক তৎপরতায় গত ১০০ ঘণ্টার (৩ দিন) ব্যবধানে কুখ্যাত জাহাঙ্গীর বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীরসহ করিম-শরীফ বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ৫ সদস্যকে আটক করা হয়েছে।
রবিবার (১৭ মে) সকালে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন স্বাক্ষরিত এক ব্রিফিং এ বিসিজিএস তৌফিক এর নির্বাহী কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট আশিকুল ইসলাম ইমন জানান, গোপন সূত্রে জানা যায়, দুর্ধর্ষ বনদস্যু করিম শরিফ বাহিনীর সদস্যরা সুন্দরবনের ঢাংমারি খালসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এখবরের প্রেক্ষিতে রবিবার ১৭ মে ভোর রাতে ঐ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ঐ বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড রাজন শরীফ (২০) ও রবিউল শেখ (৩০) কে আটক কর হয়। তাদের কাছে থাকা একটি বিদেশী এক নলা বন্দুক,২ টি দেশী একনলা বন্দুক ও ২৪ রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। এসময় তাদের হাতে জিম্মি থাকা চার জেলেকে ও উদ্ধার করা হয়। আটক রাজন শরীফের বাড়ি বাগেরহাট জেলার মোরেলগঞ্জ ও রবিউল শেখের বাড়ি রামপাল উপজেলায় ।
এর আগে শরণখোলা রেঞ্জের শ্যালা নদীর মরা চানমিয়া খালসংলগ্ন এলাকায় বনদস্যু করিম শরীফ বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান করছে এমন খবরের ভিত্তিতে ১৩ ই মে থেকে ১৫ ই মে পর্যন্ত কোস্টগার্ড সদস্যরা ওই এলাকা ঘিরে ফেলে। এ সময় বনদস্যুরা কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি বুঝতে পেরে গুলিবর্ষণ শুরু করলে কোস্ট গার্ড ও পাল্টা গুলি চালায়। গুলির মুখে পরাস্ত হয়ে দস্যুরা পালানোর সময় কোস্ট গার্ড ঐ বাহিনীর তিন সদস্যকে আটক করে। এসময় তাদের সাথে থাকা তিনটি একনলা বন্দুক, একটি দেশী পিস্তল, ৪৯ রাউন্ড তাজা গুলি, একটি এয়ারগান, দুইটি ওয়াকি টকি ও চারটি চার্জার উদ্ধার করা হয়। আটক বনদস্যু মেহেদী হাসান (২৫) রমজান শরীফ (১৯) এর বাড়ি বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলায় ও এনায়েত( ২৫) এর বাড়ি ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলায়।
১২ মে ভোররাতে সুন্দরবনের শিবসা নদীর আদাচাই ফরেস্ট ক্যাম্প সংলগ্ন কালীর খাল এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুর্ধর্ষ বনদস্যু জাহাঙ্গীর বাহিনীর প্রধান মেঝ জাহাঙ্গীর কে আটক করা হয়। এ সময় তার সাথে থাকা দুটি বন্দুক ও ৫ রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। আটক বনদস্যু বাহিনী প্রধান জাহাঙ্গীর নড়াইল জেলার নড়াগাতী এলাকার বাসিন্দা ।
১৩ই মে সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের সিংগার টেক এলাকায় বনরক্ষীদের সাথে করিম শরীফ বাহিনীর বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। এতে দস্যুরা পরাস্ত হয়ে পালিয়ে গেলে বনরক্ষীরা ঘটনাস্থল থেকে একটি এক নলা বন্দুক ও এখন তাজা গুলি উদ্ধার করে। এ সময় দস্যুদের কাছে জিম্মি থাকা হাত জেলেকে উদ্ধার করে বনরক্ষীরা।
কোস্টগার্ডের অভিযান ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় সুন্দরবনের দস্যু বাহিনী গুলো এখন অনেকটা কোণঠাসা হয়ে পড়েছে বলে দাবি করেছে সংশ্লিষ্টরা।
সুন্দরবনে সাম্প্রতিককালে দস্যুদের উত্থানের ঘটনায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে বাংলাদেশ কোট গার্ড অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড ও অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন নামে এই অভিযান দুটি শুরু করে।
সুন্দরবনের দস্যু নিধন না হওয়া পর্যন্ত এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে কোস্ট গার্ডের ওই কর্মকর্তা জানান।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









