স্বামীর দাবিকৃত যৌতুক দিতে না অস্বীকার করায় স্ত্রীকে মারপিট করে হত্যার চেস্টার অভিযোগ এনে মামলা করেছে ভুক্তভোগী গৃহবধূ। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চিকিৎসকের অনুমতি নিয়ে রোববার বরগুনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যনালে স্বামীসহ তিন জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন ভুক্তভোগী গৃহবধূ। ওই ট্রাইব্যুনালের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ মো: ওসমান গনি মামলাটি গ্রহন করে বরগুনার পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে এজাহার ভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন।
এ মামলায় প্রধান আসামী হলো বরগুনা জেলার বামনা উপজেলার দক্ষিন রামনা গ্রামের মোঃ ফারুক হোসেনের ছেলে মোঃ আল আমিন (৩০)। অন্য আসামীরা হচ্ছে আল আমীনের বাবা মোঃ ফারুক হোসেন ও মা মোসাঃ হাজেরা। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিশেষ পিপি রনজুয়ারা সিপু।
জানা যায়,আসামীর একই গ্রামে ভুক্তভোগী গৃহবধূর বাড়ি। আসামী আল আমীনের সঙ্গে ২০২২ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারী বিয়ে হয়। গৃহবধূর বাবা তার স্বামীকে বিদেশে পাঠায়। আল আমীন মালয়েশিয়া থেকে গত মাসের ৯ তারিখ দেশে আসেন। আল আমীন বাড়িতে না এসে তার প্রবাসী বন্ধুর বাড়িতে তিনদিন থেকে বাড়িতে আসে। প্রবাসী বন্ধুর স্ত্রীর সঙ্গে আগে থেকেই আল আমীনের পরকীয়া ছিল। আল আমীন বাড়িতে এসে জানান দেয় সে আর বিদেশে যাবে না। দেশে ব্যবসা করবেন। এ জন্য বাদির বাবার ৫ লাখ টাকা দিতে হবে। এ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বাদির সঙ্গে চলতি মাসের ১৬ তারিখ বিকাল অনুমান ৫ টার সময় বাদির বাবার ঘরে বসে আল আমীনের ঝগড়া হয়। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে আসামীরা উত্তেজিত হয়ে বাদিকে সকল আসামী বেধড়ক মারপিট করে। আল আমীন বাদির তলপেটে লাথি মেরে রক্তাক্ত জখম করে। বাদিকে তার স্বজনরা বরগুনা হাসপাতালে ভর্তি করায়।
বাদি বলেন, আমার স্বামী তার প্রবাসী বন্ধুর স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ায় লিপ্ত ছিল। দেশে এসে আমার কাছে আসেনি। বন্ধুর স্ত্রীর কাছে তিন থেকে বাড়িতে আসে। এখন ব্যবসা করার জন্য আমার বাবার কাছে আবার ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। আমি ও আমার বাবা যৌতুক দিতে অস্বীকার করার কারনে আমাকে মারধর করে। আসামীরা আমাকে হত্যা করতে চেয়েছিল।
এ ব্যাপারে বাদির কাছ থেকে আসামীর নম্বর নিয়ে তার সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করে পাওয়া যায়নি।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









