রাঙামাটির বাঘাইছড়ি-দীঘিনালা প্রধান সড়কের ঝুঁকিপূর্ণ ভাঙন এলাকায় জিও ব্যাগ ব্যবহার করে সংস্কারের আশ্বাস দিয়েছিল সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ)। তবে বাস্তবে সেই আশ্বাসের প্রতিফলন না দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলোতে জিও ব্যাগের পরিবর্তে সিমেন্টের খালি বস্তায় মাটি ভরে দায়সারাভাবে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
কয়েকদিনের টানা বর্ষণে পাহাড়ি ঢলের পানিতে বাঘাইছড়ি-দীঘিনালা সড়কের বিভিন্ন অংশে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দেয়। বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি সংবাদ প্রকাশিত হলে সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী প্রিয়দর্শী চাকমা জানিয়েছিলেন, ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ব্যবহার করে মেরামতের কাজ করা হবে।
কিন্তু সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অধিকাংশ ভাঙনস্থলে কোনো ধরনের জিও ব্যাগ ব্যবহার করা হয়নি। বরং সিমেন্টের খালি বস্তায় মাটি ভরে তা ভাঙন অংশে ফেলে অস্থায়ীভাবে মাটি চাপা দেয়ার কাজ চলছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এ ধরনের সংস্কার টেকসই তো নয়ই, বরং সামান্য বৃষ্টিতেই আবার ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, প্রতিবছর একইভাবে সড়ক ভাঙে এবং পরে অস্থায়ী সংস্কারের নামে দায়সারা কাজ করা হয়। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ে না। এতে জনদুর্ভোগ কমার পরিবর্তে আরও বাড়ছে।
সরেজমিনে আরও দেখা যায়, সড়কের যে সব জায়গায় কংক্রিট/সিমেন্টের ব্যাগ ব্যবহার করা হয়েছে, সেখানে আজ ১৮ মে বৃষ্টিতে সব ধুয়ে গেছে।অনেকাংশ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। কোথাও রাস্তার কিনারা ধসে গেছে, কোথাও বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। এসব অংশ দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচলের সময় ঝুঁকি আরও বেড়ে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী প্রিয়দর্শী চাকমা বলেন, “জিও ব্যাগের পরিবর্তে আপাতত সিমেন্টের বস্তা ব্যবহার করা হচ্ছে। আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে এসব স্থানে কংক্রিট ব্যবহার করে পরবর্তীতে ঢালাই কাজ সম্পন্ন করার। তবে হঠাৎ বৃষ্টির কারণে সেই কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় পরিবহন চালক জহিরুল ইসলাম এর অভিযোগ, পাহাড়ি অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি নিয়ে প্রতি বছর আলোচনা হলেও কার্যকর ও টেকসই সংস্কার বাস্তবে খুব কমই দেখা যায়। ফলে বর্ষা এলেই আতঙ্ক নিয়ে চলাচল করতে হয় সাধারণ মানুষকে।
এদিকে সওজের পক্ষ থেকে পূর্বে জানানো হয়েছিল, ভবিষ্যতে সড়কটির প্রশস্ততা ১২ ফুট থেকে বাড়িয়ে ১৮ ফুট করার পরিকল্পনা রয়েছে এবং প্রায় ১০০ কোটি টাকার একটি উন্নয়ন প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন। তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প বাস্তবায়নের আগ পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ সড়কে কেন টেকসই অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
সংশ্লিষ্টদের মতে, পাহাড়ি এলাকায় সড়ক রক্ষায় মানসম্মত প্রতিরোধব্যবস্থা ও প্রকৌশলভিত্তিক পরিকল্পনা ছাড়া প্রতিবছরের এই ভাঙন ও সংস্কারের চক্র থেকে বের হওয়া সম্ভব নয়।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









