পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে প্রতি বছরই মসলার বাজারে বাড়তি চাপ তৈরি হয়। কোরবানির মাংস রান্নায় প্রয়োজনীয় নানা মসলার চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সাধারণত এ সময় দামও বাড়িয়ে দেন ব্যবসায়ীরা। তবে এবার সেই চিরচেনা চিত্রের দেখা মিলছে না নীলফামারীর সৈয়দপুরের বাজারে। ঈদের আর মাত্র সপ্তাহখানেক বাকি থাকলেও এখনো জমে ওঠেনি মসলার বাজার। পাইকারি ও খুচরা উভয় বাজারেই বিক্রি তুলনামূলক কম, আর অধিকাংশ মসলার দাম রয়েছে স্থিতিশীল স্বাভাবিক রয়েছে।
সোমবার (১৮ মে) সরেজমিনে সৈয়দপুরের মসলাপট্টি ঘুরে দেখা যায়, অন্যান্য বছরের তুলনায় বাজারে ক্রেতার উপস্থিতি অনেক কম। ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, এবার আমদানি ও মজুত পর্যাপ্ত থাকায় বাজারে কোনো অস্থিরতা তৈরি হয়নি। বরং কিছু কিছু মসলার দাম আগের চেয়ে কমেছে।
বর্তমানে বাজারে জিরা বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৫৬০ থেকে ৬০০ টাকায়। দারুচিনি ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকা, বড় এলাচ ২ হাজার ৪৪০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা এবং ছোট এলাচ ৪ হাজার ৪০০ থেকে ৪ হাজার ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া কালো গোলমরিচের দাম ১ হাজার ৮০ থেকে ১ হাজার ১০০ টাকা, লবঙ্গ ১ হাজার ৩৮০ থেকে ১ হাজার ৪২০ টাকা, ধনিয়া ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা এবং কালোজিরা ৩৮০ থেকে ৪৫০ টাকার মধ্যে রয়েছে। এছাড়া মুহুরী ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, মেথি ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা, গুঁড়া হলুদ ২৪০ থেকে ২৫০ টাকা, সরিষা ১১০ থেকে ১২০ টাকা এবং লবণ বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকায়।
উল্লিখিত মসলা দাম গত এক মাসের মধ্যে যেরুপ ছিল সেরুপ স্থিতিশীল রয়েছে বলে জানিয়েছেন মসলা ব্যবসায়ীরা।
মসলাপট্টির ব্যবসায়ী রিয়াজ উদ্দিন বলেন, ‘‘আসন্ন কোরবানির ঈদকে ঘিরে এবার বাজারে তেমন কোনো চাপ নেই। সব মসলার দাম স্থিতিশীল রয়েছে। কিছু কিছু পণ্যের দাম তো আগের চেয়েও কমেছে।’’
আরেক ব্যবসায়ী কাওসার জানান, প্রতি বছর ঈদের অন্তত এক মাস আগে থেকেই বাজারে ব্যাপক চাপ থাকে। কিন্তু এবার এখনো সেই অবস্থা তৈরি হয়নি। তবে ঈদের শেষ সময়ে ক্রেতার চাপ বাড়তে পারে বলে জানান তিনি।
আরেক ব্যবসায়ী ইসতিয়াকের মতে, দেশে চাহিদার তুলনায় মসলার মজুত অনেক বেশি রয়েছে। পাশাপাশি আমদানিও পর্যাপ্ত হওয়ায় বাজারে কোনো সংকট নেই। তিনি বলেন, ‘‘বর্তমান মজুত বিবেচনায় ঈদের আগে মসলার দাম বাড়ার সম্ভাবনা খুবই কম।’’
এদিকে ডোমার থেকে পাইকারি মসলা কিনতে আসা মনিরুজ্জামান বলেন, ‘‘ঈদের সময় স্পাইসি খাবারের চাহিদা বাড়ে, তাই মসলাও বেশি লাগে। এখান থেকে পাইকারি মসলা কিনে নিয়ে যাচ্ছি। দাম স্বাভাবিক থাকায় স্বস্তি লাগছে। সবমিলিয়ে কোরবানির ঈদ ঘিরে দেশের অন্যান্য সময়ের মতো মসলার বাজারে বাড়তি উত্তাপ না থাকায় সৈয়দপুরে স্বস্তিতে রয়েছেন ক্রেতা ও ব্যবসায়ী উভয়েই।’’


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









