কিংবদন্তি প্লেব্যাক গায়িকা এস. জনকী চার দশক ধরে বিশ হাজারেরও বেশি গানে মুগ্ধ করেছেন কোটি কোটি শ্রোতাকে—আজ শেষ হলো সেই সুরের যাত্রা।
রবিবার (১২ জুলাই) মাইসুরু-এ দক্ষিণ ভারতের ‘নাইটিঙ্গেল’ খ্যাত কিংবদন্তি প্লেব্যাক গায়িকা এস. জনকী ৮৮ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেছেন। গতকাল মাইসুরুতে তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন, যা দিয়ে শেষ হলো ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা এক অসাধারণ সঙ্গীত যাত্রা। তার প্রয়াণে ভারতবাসী শোকাহত।
কর্মজীবন
জনকী দেবীর কণ্ঠে প্রায় ৪০,০০০-এরও বেশি গান রেকর্ড হয়েছে, যা প্রায় ২০টি ভারতীয় ভাষায় গাওয়া। তামিল, তেলুগু, মালয়ালম, কন্নড়, হিন্দি, ওড়িয়া এবং বাংলাসহ নানা ভাষায় তার সুর মুগ্ধ করেছে কোটি কোটি শ্রোতাকে। একজন শিল্পীর পক্ষে এত ভাষায় এত বেশি গান গাওয়া এবং প্রতিটিতেই স্বতন্ত্র মনোযোগ আকর্ষণ করা অবিশ্বাস্য প্রতিভার পরিচয় বহন করে।
শ্রদ্ধা
রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু তাকে 'সঙ্গীত কিংবদন্তি' আখ্যা দিয়ে বলেছেন,“তার চিরন্তন কণ্ঠ ভারতের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করেছে।”
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তার মৃত্যুকে ‘সঙ্গীত ও সংস্কৃতি জগতের এক অপূরণীয় ক্ষতি’ বলে উল্লেখ করেছেন।
দুই শীর্ষ নেতাই তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করেছেন।
চলচ্চিত্র জগতের শোক প্রকাশ
তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী বিজয় থালাপতি তার স্মৃতিচারণা করে বলেছেন, “ভারতীয় চলচ্চিত্র সঙ্গীত জগতে তার অনন্য কণ্ঠে বহু প্রজন্মের হৃদয় জয় করেছেন। তার মধুর কণ্ঠ, আবেগ প্রকাশের অসাধারণ ক্ষমতা এবং সঙ্গীতের প্রতি অনুগত নিষ্ঠা তাকে ভক্তদের হৃদয়ে চিরকাল স্থান দেবে।”
তেলুগু সিনেমার মেগাস্টার চিরঞ্জীবি পুরনো ছবি শেয়ার করে লিখেছেন, “আমার চলচ্চিত্র যাত্রায় তিনি অসংখ্য অবিস্মরণীয় গানে তার অতুলনীয় কণ্ঠ দিয়েছেন। তার মধুর কণ্ঠই সেই সব আবেগকে প্রাণ দিয়েছে।”
তামিল অভিনেতা, প্রযোজক ও সংসদ সদস্য কমল হাসন লিখেছেন, “সেই গান চিরকাল বাজতে থাকবে। সেই ভালোবাসা কোথায় খুঁজে পাব, মা?”
অভিনেত্রী তৃষা কৃষ্ণন তার সঙ্গে দুর্লভ ছবি শেয়ার করে লিখেছেন, “আপনাকে চেনা এবং আপনার ভালোবাসা পাওয়া আমি চিরকাল মনে করব। সবচেয়ে বড় শিল্পীরাই সবচেয়ে বিনয়ী—সেটা আপনি সর্বদা মনে করিয়ে দিতেন।”
চলচ্চিত্র প্রযোজক বনি কাপুর লিখেছেন, “অসংখ্য আবেগকে প্রাণ দেওয়া কণ্ঠ নীরব হয়েছে, কিন্তু তার প্রতিধ্বনি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বাজতে থাকবে।”
শেষকৃত্য ও শ্রদ্ধা নিবেদন
তার শেষকৃত্য মাইসুরুতে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে। সাধারণ মানুষকে শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগ দেওয়া হবে। তার অসাধারণ কর্মজীবন এবং অতুলনীয় বহুমুখী প্রতিভা তাঁকে ভারতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্লেব্যাক গায়িকার আসনে অভিষিক্ত করেছে।
চিরন্তন সুর
এস. জনকী দেবী হয়তো শারীরিকভাবে আর নেই, কিন্তা তাঁর সুর ভারতীয় সঙ্গীতের ইতিহাসে চিরদিন বেঁচে থাকবে। তাঁর গান আগামী প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করতে থাকবে—এটাই তাঁর সবচেয়ে বড় অমরত্ব।
সূত্র: উইয়ন


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









