নীলফামারী জেলার পরিবহন খাতে অনুমোদনহীন উপ-কমিটি গঠন, অবৈধ চাঁদাবাজি এবং শ্রমিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন সাধারণ বাস শ্রমিকরা। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এসব অনিয়ম বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে কঠোর আন্দোলনের পাশাপাশি জেলাজুড়ে পরিবহন ধর্মঘটের মতো কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।
রবিবার (১২ জুলাই) সকাল ১১টায় সৈয়দপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে নীলফামারী জেলা বাস-ট্রাক-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের (রেজি নং-২২০) উদ্যোগে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মহাসড়ক অবরোধ করে চলা এই মানববন্ধনে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত পরিবহন শ্রমিক ও সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। ঘণ্টাব্যাপী চলা এই কর্মসূচির কারণে টার্মিনাল এলাকার উভয় পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, নীলফামারী জেলা বাস-মিনিবাস ও কোচ পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের (রেজি নং-৩৪৪৬) নামে জেলার বিভিন্ন বাস কাউন্টার, স্ট্যান্ড ও রুটে জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। একই সঙ্গে কোনো অনুমোদন ছাড়াই বিভিন্ন উপজেলায় উপ-কমিটি গঠন করে সাধারণ শ্রমিকদের মধ্যে বিভেদ ও নৈরাজ্য সৃষ্টি করা হচ্ছে। এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করলে সাধারণ শ্রমিকদের মারধর, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং কর্মস্থল থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটছে।
শ্রমিক নেতারা জানান, এসব বিষয়ে এর আগে একাধিকবার শ্রম পরিচালক, রেজিস্ট্রার অব ট্রেড ইউনিয়নসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ গত ৩০ মার্চ, ১৭ মে ও ৭ জুলাই পৃথকভাবে অভিযোগ জমা দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী বলেন, "একটি চক্র অবৈধভাবে উপ-কমিটি গঠন করে বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিকদের কাছ থেকে জোরপূর্বক চাঁদা তুলছে। এতে বাধা দিলে শ্রমিকদের ওপর হামলা ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে। দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নেওয়া হলে জেলার পরিবহন খাতে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে।" সংগঠনের সহ-সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
লিখিত অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ৫ জুলাই কিশোরগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি এলাকায় জোরপূর্বক চাঁদা আদায়কে কেন্দ্র করে সাময়িকভাবে পরিবহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও পরবর্তীতে তা অমান্য করে পুনরায় চাঁদাবাজি শুরু করা হয়। এছাড়া সৈয়দপুরের একটি বাস কাউন্টারকে কেন্দ্র করে শ্রমিকদের মারধরের ঘটনায় সাধারণ পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।
মানববন্ধন থেকে অবিলম্বে অবৈধ চাঁদাবাজি বন্ধ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানানো হয়। অন্যথায় সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে প্রশাসনকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান শ্রমিক নেতারা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









