ভারতের বর্ষীয়ান অভিনেতা অমল পালেকার শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে লেখা এক চিঠিতে তাদের আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এই প্রজন্ম গণতন্ত্রের অসমাপ্ত কাজ এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে এবং ভবিষ্যতে তারা নীরবতার পরিবর্তে সাহস বেছে নেওয়া প্রজন্ম হিসেবে পরিচিত হবে।
চিঠিতে অমল পালেকার উল্লেখ করেন, প্রতিটি প্রজন্মই গণতন্ত্র রক্ষার দায়িত্ব উত্তরাধিকার হিসেবে পায়। বর্তমান শিক্ষার্থীরা সেই দায়িত্ব ও সুযোগ গ্রহণ করেছে। দিল্লিতে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো দেখে তিনি ও তার স্ত্রী সন্ধ্যা উদ্বিগ্ন হয়েছেন বলেও জানান।
তিনি আলবার্ট কামুর ‘ক্যালিগুলা’ প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, ক্ষমতা যখন নিজেকে কোনো নৈতিক সীমার মধ্যে আবদ্ধ মনে করে না, তখন তা স্বৈরাচারে পরিণত হয়। ইতিহাসে বারবার দেখা গেছে, তরুণদের কণ্ঠ দমন করে স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা থামানো যায় না।
অমল পালেকার বলেন, জার শাসিত রাশিয়া থেকে শুরু করে ১৯৬৮ সালের প্যারিস ছাত্র আন্দোলন, দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবৈষম্যবিরোধী সংগ্রাম, তিয়েনআনমেন স্কয়ার কিংবা ভারতের বিভিন্ন ছাত্র আন্দোলন—সব ক্ষেত্রেই তরুণদের প্রতিবাদ পরিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে কাজ করেছে।
শিক্ষার্থীদের ওপর চালানো নৃশংসতার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, একটি সমাজ তার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেই নিজেকে প্রশ্ন করতে শেখে। ক্ষমতাবানদের প্রশ্ন করা শিক্ষার্থীদের বিশেষ সুবিধা নয়, বরং গণতান্ত্রিক দায়িত্ব। যুক্তির পরিবর্তে শক্তি প্রয়োগ করা হলে ক্ষতিগ্রস্ত হয় রাষ্ট্রেরই ভিত্তি।
তিনি ফিওদর দস্তয়েভস্কির একটি মন্তব্যের উদাহরণ দিয়ে বলেন, একটি সমাজের সভ্যতা প্রকাশ পায় সে তার বন্দিদের সঙ্গে কেমন আচরণ করে তার মাধ্যমে। একইভাবে একটি গণতন্ত্রের সুস্থতা বোঝা যায় শিক্ষার্থী ও নাগরিকদের প্রতি তার আচরণে।
অমল পালেকার জানান, বয়সজনিত কারণে তিনি সরাসরি আন্দোলনে অংশ নিতে পারেননি। তবে এটি তার বিবেকের কোনো দ্বিধার কারণে নয়। তিনি বলেন, তিনি ইচ্ছাকৃতভাবেই সামনে আসেননি, কারণ এটি শিক্ষার্থীদের নিজেদের আন্দোলন এবং তাদের কণ্ঠস্বরের বিষয়। কোনো ব্যক্তির উপস্থিতির চেয়ে আন্দোলনের মূল শক্তি আসে অংশগ্রহণকারীদের সাহস থেকে।
তিনি শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে বলেন, দূরত্ব মানেই বিচ্ছিন্নতা নয়। প্রয়োজন হলে আইনি সহায়তা, চিকিৎসা বা আর্থিক সহযোগিতার মাধ্যমে তিনি ও তার স্ত্রী তাদের পাশে থাকবেন।
চিঠির শেষে অমল পালেকার শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, তারা শুধু পরিবর্তনের বীজ নয়, বরং পরিবর্তনের প্রথম অঙ্কুর। আজ তাদের ছাত্র হিসেবে দেখা হলেও ভবিষ্যতে ইতিহাস তাদের সেই প্রজন্ম হিসেবে মনে রাখবে, যারা নীরবতার বদলে সাহসকে বেছে নিয়েছিল।
তিনি শিক্ষার্থীদের পরস্পরের যত্ন নেওয়া, সহানুভূতি ও আশা ধরে রাখার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, ক্রোধ যেন ঘৃণায় পরিণত না হয় এবং দৃঢ়তা ও মানবিকতা বজায় রেখেই সামনে এগিয়ে যেতে হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









