অনুমতি ছাড়াই সামরিক হামলার ভিডিওতে নিজের জনপ্রিয় গান ‘ফায়ারওয়ার্ক’ ব্যবহার করায় ট্রাম্প প্রশাসনের তীব্র সমালোচনা করেছেন মার্কিন পপ তারকা ক্যাটি পেরি।
সম্প্রতি হোয়াইট হাউসের টিকটক অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে সামরিক হামলার ফুটেজ দেখানো হয়। ভিডিওটির ক্যাপশনে লেখা ছিল, ‘ইরানকে সতর্ক করা হয়েছে’। আর এর ব্যাকগ্রাউন্ডে বাজছিল ক্যাটি পেরির জনপ্রিয় গান ফায়ারওয়ার্ক।
ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ক্যাটি পেরি এক্সে (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, “আমি গভীরভাবে মর্মাহত এবং ক্ষুব্ধ। এ ব্যবহারের অনুমোদন আমি দিইনি, আমাকে জিজ্ঞাসাও করা হয়নি। আমি কোনোভাবেই এর সঙ্গে একমত নই।”
তিনি আরও বলেন, “আত্মমর্যাদা ও অনুপ্রেরণার বার্তা বহনকারী একটি গানকে ধ্বংস ও সহিংসতার আবহসংগীত হিসেবে ব্যবহার করা আমার গানের মূল ভাবনার সম্পূর্ণ পরিপন্থী।”
ফায়ারওয়ার্ক গানটি বিলবোর্ড হট ১০০ চার্টে ক্যাটি পেরির শীর্ষে ওঠা নয়টি গানের অন্যতম।
২০২৩ সালে ক্যাটি পেরি তার পাঁচটি সফল অ্যালবামের মাস্টার রেকর্ডিং ও প্রকাশনা-স্বত্ব কার্লাইল গ্রুপের অর্থায়নে পরিচালিত লিটমাস মিউজিক-এর কাছে বিক্রি করেন। এর মধ্যে ‘টিনএজ ড্রিম’ অ্যালবামও ছিল, যেখানে ফায়ারওয়ার্ক গানটি অন্তর্ভুক্ত। বিলবোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এই চুক্তি থেকে তিনি ২২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করেন।
রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও বরাবরই সরব ক্যাটি পেরি। তিনি ২০২৪ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কমলা হ্যারিস, ২০২০ সালে জো বাইডেন এবং ২০১৬ সালে হিলারি ক্লিনটনের পক্ষে প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছিলেন।
সাম্প্রতিক সময়ে কানাডার সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়েও গণমাধ্যমে আলোচনা চলছে।
সৃষ্টিশীল কাজের রাজনৈতিক ব্যবহার নিয়ে শিল্পীদের আপত্তি নতুন নয়। এর আগে ব্রুস স্প্রিংস্টিন, নিল ইয়ং, অ্যাডেল, রিহানাসহ অনেক শিল্পী ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক সমাবেশে অনুমতি ছাড়া তাদের গান ব্যবহারের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
এ ছাড়া সরকারি সংস্থার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুমতি ছাড়া গান বা অন্যান্য সৃজনশীল কাজ ব্যবহারের বিরুদ্ধেও আগে থেকেই সোচ্চার অলিভিয়া রদ্রিগো, সাবরিনা কার্পেন্টার এবং শিশুতোষ বইয়ের প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান কিডস ক্যান প্রেস।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









