সমালোচকদের নেতিবাচক পর্যালোচনা সত্ত্বেও মুক্তির পর বক্স অফিসে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছিল ডিসি কমিকসের সুপারভিলেনভিত্তিক সিনেমা ‘সুইসাইড স্কোয়াড’। মুক্তির ১০ বছর পর মূল্যস্ফীতি সমন্বয় করে হিসাব করলে সিনেমাটির বিশ্বব্যাপী আয় দাঁড়িয়েছে ১০৫ কোটি ডলারের বেশি। অর্থাৎ, বর্তমান সময়ের ডলারের মূল্য বিবেচনায় এটি এখন এক বিলিয়ন ডলারের সিনেমা।
কসমিক বুক নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডেভিড আয়ারের পরিচালনায় ২০১৬ সালে মুক্তি পাওয়া ‘সুইসাইড স্কোয়াড’ বিশ্বব্যাপী বক্স অফিস থেকে আয় করেছিল ৭৪ কোটি ৯২ লাখ ডলার।
বক্স অফিস মোজোর তথ্য অনুযায়ী, মূল্যস্ফীতি সমন্বয়ের পর এই আয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১০৫ কোটি ১৮ লাখ ডলার।

এ হিসাবে সিনেমাটি জ্যাক স্নাইডারের ডিসি চলচ্চিত্রজগতের দ্বিতীয় সিনেমা, যার আয় বর্তমান ডলারের হিসাবে এক বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। এর আগে ‘ব্যাটম্যান ভার্সেস সুপারম্যান: ডন অব জাস্টিস’র মূল্যস্ফীতি সমন্বিত আয় প্রায় ১২২ কোটি ডলারে পৌঁছায়। আর ‘ম্যান অব স্টিল’র আয় প্রায় ৯৬ কোটি ৯০ লাখ ডলার। সব মিলিয়ে স্নাইডারভার্সের প্রথম তিন সিনেমার মূল্যস্ফীতি সমন্বিত আয় ৩০০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে।

মুক্তির সময়ই রেকর্ড গড়েছিল সিনেমাটি
২০১৬ সালের ৫ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রে মুক্তি পায় ‘সুইসাইড স্কোয়াড’। মুক্তির প্রথম সপ্তাহান্তে উত্তর আমেরিকার বক্স অফিসে সিনেমাটি আয় করে ১৩ কোটি ৩৭ লাখ ডলার। সে সময় আগস্ট মাসে মুক্তি পাওয়া সিনেমাগুলোর মধ্যে এটিই ছিল সর্বোচ্চ উদ্বোধনী আয়ের রেকর্ড।
মূল্যস্ফীতি সমন্বয় করলে সিনেমাটির প্রথম সপ্তাহান্তের আয় দাঁড়ায় প্রায় ১৮ কোটি ৭৭ লাখ ডলার। উত্তর আমেরিকায় এর মোট আয় ছিল ৩২ কোটি ৫১ লাখ ডলার এবং আন্তর্জাতিক বাজার থেকে আসে ৪২ কোটি ৪১ লাখ ডলার।
রটেন টম্যাটোজে সমালোচকদের কাছ থেকে মাত্র ২৬ শতাংশ ইতিবাচক রেটিং পেলেও দর্শকদের আগ্রহ সিনেমাটির বক্স অফিস সাফল্যে বড় ভূমিকা রাখে। পরে সেরা মেকআপ ও চুলসজ্জার জন্য অস্কারও জেতে ছবিটি।

আয়ারের মূল পরিকল্পনায় ছিল ভিন্ন সমাপ্তি
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়া ‘সুইসাইড স্কোয়াড’ আসলে পরিচালক ডেভিড আয়ারের পরিকল্পিত সংস্করণ ছিল না। ওয়ার্নার ব্রাদার্স মুক্তির আগে সিনেমাটি পুনরায় সম্পাদনা করেছিল। নির্মাণের সময় স্টুডিওর সঙ্গে মতবিরোধের কথাও একাধিকবার বলেছেন আয়ার।
পরিচালকের মূল পরিকল্পনায় সিনেমাটির সঙ্গে জ্যাক স্নাইডারের ডিসি চলচ্চিত্রজগতের আরও সরাসরি সংযোগ থাকার কথা ছিল। সেই সংস্করণে এনচ্যানট্রেসের সঙ্গে মাদার বক্সের যোগসূত্র এবং শেষ লড়াইয়ে প্যারাডেমনদের উপস্থিতির পরিকল্পনা ছিল। সেখানে স্টেপেনউলফেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকার কথা ছিল।
তবে এসব দৃশ্য প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়া সংস্করণে রাখা হয়নি। আয়ারের সম্পাদিত পূর্ণাঙ্গ সংস্করণ, যা ‘আয়ার কাট’ নামে পরিচিত, এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তি পায়নি।

‘আয়ার কাট’ কি বড় পর্দায় আসবে?
কসমিক বুক নিউজের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, স্টুডিওর অভ্যন্তরীণ সূত্রের দাবি অনুযায়ী, ভবিষ্যতে পরিচালকদের বিশেষ সংস্করণ প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শনের পরিকল্পনা থাকতে পারে। সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবে ডেভিড আয়ারের ‘সুইসাইড স্কোয়াড’ এবং জ্যাক স্নাইডারের কিছু সিনেমাও বিবেচনায় রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ধরনের প্রদর্শনীর সঙ্গে বিশেষ অনুষ্ঠান, পরিচালকদের প্রশ্নোত্তর পর্ব, নতুন ব্লু-রে সংস্করণ ও সংগ্রহযোগ্য পণ্য বাজারজাত করার পরিকল্পনাও থাকতে পারে। তবে ‘আয়ার কাট’ মুক্তির বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।
এক দশক পরও ‘সুইসাইড স্কোয়াড’ নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ অব্যাহত রয়েছে। সিনেমাটির মুক্তিপ্রাপ্ত সংস্করণ বক্স অফিসে বড় সাফল্য পেলেও পরিচালকের মূল পরিকল্পনা দেখতে চান অনেক ভক্ত। ফলে ভবিষ্যতে আয়ারের সংস্করণ মুক্তি পেলে তা ডিসি ভক্তদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠতে পারে।



সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









