বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী কাজল প্রায় তিন দশকের ক্যারিয়ারে নিজের একটি অলিখিত নিয়ম মেনে চলেছেন- পর্দায় চুম্বন দৃশ্যে অভিনয় করবেন না। কিন্তু সময়ের সঙ্গে গল্পের চাহিদা বদলায়, চরিত্রের গভীরতাও বাড়ে। সেই জায়গা থেকেই শেষ পর্যন্ত নিজের দীর্ঘদিনের ‘নো কিসিং পলিসি’ ভেঙেছেন তিনি, ওয়েব সিরিজ ‘দ্য ট্রায়াল: পেয়ার, কানুন, ধোঁকা’-এর জন্য।
সম্প্রতি এক পডকাস্টে কাজল নিজেই এই সিদ্ধান্তের পেছনের গল্প খুলে বলেছেন। তার ভাষায়, বিষয়টি মোটেই সহজ ছিল না। বরং শুটিংয়ের আগপর্যন্ত ভেতরে–ভেতরে অস্বস্তি কাজ করছিল। তিনি বলেন, ‘আমি খুব অস্বস্তি বোধ করছিলাম। যতক্ষণ না সেটে দাঁড়াচ্ছি, ততক্ষণ বুঝতেই পারছিলাম না, আমি সত্যিই এই দৃশ্যটা করব কিনা।’
কাজল জানান, স্ক্রিপ্টে দৃশ্যটির গুরুত্ব তিনি বুঝেছিলেন শুরু থেকেই। কিন্তু ক্যামেরা অন হওয়ার পর নিজেকে সেই জায়গায় নেওয়া- সেটাই ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এমনও মুহূর্ত এসেছিল, যখন মনে হয়েছিল, মাঝপথেই হয়তো থেমে যাবেন। তবু শেষ পর্যন্ত পেশাদার অভিনেত্রী হিসেবে চরিত্রের প্রয়োজনকে প্রাধান্য দিয়েছেন তিনি।
ওটিটি প্ল্যাটফর্মে তার অভিষেক সিরিজ ‘দ্য ট্রায়াল: পেয়ার, কানুন, ধোঁকা’তে কাজল অভিনয় করেছেন নয়নিকা সেনগুপ্ত চরিত্রে একজন গৃহবধূ, যে স্বামীর কেলেঙ্কারির পর নতুন করে আইনজীবী হিসেবে নিজের জীবন শুরু করে। ব্যক্তিগত বিপর্যয়, সামাজিক চাপ এবং পেশাগত লড়াই সব মিলিয়ে চরিত্রটি বহুমাত্রিক।

‘ট্রায়াল’–এর কাজল। আইএমডিবি
সিরিজটি মূলত মার্কিন টিভি শো ‘দ্য গুড ওয়াইফ’র ভারতীয় রূপান্তর। এর ফলে গল্পের কাঠামো এবং আবেগের গভীরতায় আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার চাপও ছিল নির্মাতাদের ওপর। কাজলের মতে, তার চরিত্রের মানসিক যাত্রা ও আবেগের টানাপোড়েন বোঝাতে ওই চুম্বন দৃশ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
সহ-অভিনেতা যীশু সেনগুপ্তর সঙ্গে সেই দৃশ্যে অভিনয় করেন কাজল। সিরিজে যীশু অভিনয় করেছেন রাজীব সেনগুপ্ত চরিত্রে, যে নয়নিকার স্বামী। এই দৃশ্য মুক্তির পর থেকেই দর্শক ও ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করে- বিশেষ করে কাজলের দীর্ঘদিনের অবস্থান বিবেচনায়।

‘ট্রায়াল’–এর কাজল। আইএমডিবি
পডকাস্টে কাজল আরো বলেন, ‘এটা কোনো ব্যক্তিগত নীতি ভাঙার বিষয় ছিল না। বরং চরিত্রের জন্য যা প্রয়োজন, সেটাই করেছি। যদি এই দৃশ্য বাদ দিতাম, তাহলে চরিত্রের একটা গুরুত্বপূর্ণ দিকই হারিয়ে যেত।’
কাজল স্পষ্ট করে দেন, সিদ্ধান্তটি আবেগ বা হঠকারিতা থেকে নয়, বরং সম্পূর্ণ পেশাদার বিবেচনায় নেয়া। তার মতে, একজন অভিনেতার কাজই হলো চরিত্রকে পূর্ণতা দেওয়া- সে জন্য কখনো কখনো নিজের স্বাচ্ছন্দ্যের সীমাও অতিক্রম করতে হয়।
তবে ভবিষ্যতে এমন দৃশ্যে অভিনয় করবেন কিনা- সে বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি কাজল। বরং ইঙ্গিত দিয়েছেন, প্রতিটি সিদ্ধান্তই নির্ভর করবে গল্প, চরিত্র ও পরিস্থিতির ওপর।
তিন দশকের ক্যারিয়ারে ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে’, ‘কুচকুচ হোতা হ্যায়’, কিংবা ‘কাভি খুশি কাভি গাম’র মতো সুপারহিট প্রেমের ছবিতে অভিনয় করেও কাজল তাঁর এই নীতি অটুট রেখেছিলেন। তাই ‘দ্য ট্রায়াল’-এ সেই নিয়ম ভাঙার সিদ্ধান্ত স্বাভাবিকভাবেই ভক্তদের কাছে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।
সব মিলিয়ে কাজলের এই অভিজ্ঞতা আবারও সামনে এনেছে- অভিনয়জগতে ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও পেশাদার দায়বদ্ধতার মধ্যে সূক্ষ্ম ভারসাম্য কীভাবে কাজ করে। আর সেই ভারসাম্য রক্ষা করেই একজন অভিনেতা নিজের সীমা ভেঙে নতুন জায়গায় পৌঁছান।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









