মারুফ আর রূপালির ছোট্ট সংসার। তারা দুজনে শহরে থাকেন। ভালোবেসে বিয়ে করলেও বিয়ের পর সেই ভালোবাসা আর আগের মতো রইল না। একই ছাদের নিচে বসবাস করতে গিয়ে টুকটাক বিষয় নিয়ে ঝগড়াঝাঁটি বা মনোমালিন্য হওয়াটা স্বাভাবিক। কিন্তু মারুফ আর রূপালির মনোমালিন্য একটু আলাদা। কারণ তারা অকারণেই সামান্য বিষয় নিয়ে একে অন্যের দোষ ধরতে শুরু করেন।
একদিন দুপুরে মারুফ ভাত খেতে বসেন। প্রথম লোকমা মুখে দিতেই একটি পাথর দাঁতে লাগে। তিনি থতমত খেয়ে রেগে গিয়ে বলেন, “রূপালি, তোমাকে কি আল্লাহ দুটি চোখ দেননি? চাল থেকে পাথর বেছে রান্না করতে পারো না?”
রূপালি বুঝতে পারেন, ভুলটা তারই হয়েছে। কারণ সেদিন তিনি সারাদিন মোবাইলে নাটক দেখেছেন। ফলে রান্নাবান্নায় খুব একটা মনোযোগ ছিল না, এমনকি চালের পাথর বেছে নেওয়ার প্রতিও আগ্রহ দেখাননি।
কিন্তু মারুফকে তো আর এসব জানানো যাবে না। তাই রূপালি একদম শান্তভাবে বলেন, “হুম। আল্লাহ তো তোমাকেও ৩২টা দাঁত দিয়েছেন, তুমি পাথরগুলো চিবিয়ে খেতে পারো না কেন?”
রূপালির কথা শুনে প্রথমে কিছুক্ষণ নীরবতা নেমে আসে। তারপর হঠাৎ করেই দুজনেই হাসতে শুরু করেন। কারণ ঝগড়া করতেও যেন তারা ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন।
এরপর রূপালি একটি কৌটো বের করে বলেন, “দেখো, আজ থেকে পাথর আলাদা করেই চাল রাখব। আর তুমি খাওয়ার আগে এক নজর দেখে নিও। শুধু দাঁতের জোরে না, চোখের জোরও কাজে লাগাও।”
সেদিনের পর থেকে মারুফ প্রতিবার ভাত খাওয়ার আগে ভালো করে একবার দেখে নেন। আর রূপালি চাল ধোয়ার সময় একটু বেশি সময় নেন। শুধু ঝগড়ার জন্য নয়, বরং একটু হাসির জন্যও বোধহয় তারা প্রতিদিন একটু সময় রেখে দেন।
লেখক : জোবায়ের রাজু


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









