মুকলেছ মিয়ার ব্যবসায়িক জ্ঞান অসাধারণ। কখন কিসের ব্যবসা করলে পকেট ভারী হবে, সেই বুদ্ধি তার মাথায় আপনাআপনিই চলে আসে।
ইদানীং তার কোচিং ব্যবসার প্রতি দারুণ ঝোঁক। আর ঝোঁক হবেই বা না কেন? বিনিয়োগ অল্প, মুনাফা বেশি।
একটা এসি রুম, কয়েকটা চেয়ার-টেবিল। ব্যস! কোচিং সেন্টার তৈরি। এরপর ফেসবুকে কয়েকটা চটকদার বিজ্ঞাপন—‘দশ দিনে সরকারি চাকরির ১০০% নিশ্চয়তা’, ‘সফল হওয়ার জাদুকরী উপায়’, ‘জীবন বদলে দেওয়ার সহজ কৌশল’ ইত্যাদি।
শত শত লোক কমেন্টে জানতে চাইবে—কোর্স ফি কত?
রিপ্লাই যাবে—‘ইনবক্স প্লিজ।’
ইনবক্সে ফোন নম্বর চাইবে। তারপর ফোন করে বলবে, —৫০% ডিসকাউন্ট চলছে। তবে শুধু আপনার জন্য ৭৫%!
শ’খানেক লোক ভর্তি করাতে পারলেই ব্যবসা হিট। দুই-একটা সেশন পর প্রশিক্ষণার্থীরা যখন বুঝবে, তারা আসলে কী শিখছে—সেটাই বুঝতে পারছে না, তখন কোর্স ছাড়তে চাইবে। কেউ কেউ ফি ফেরতও চাইবে।
মুকলেছ সাহেব তখন হাসিমুখে বলবেন,
—সরি স্যার, কোর্স ফি নন-রিফান্ডেবল।
তার সর্বশেষ ক্র্যাশ কোর্সটির নাম ছিল—‘এক কেজি কাঁচা মরিচে এক মাস’।
সাত দিন মেয়াদি কোর্স। ইন্সট্রাক্টরও তিনি নিজেই। কিন্তু মরিচের দাম কমে আসায় কোর্সটিও শেষ পর্যন্ত বন্ধ করতে হলো।
নতুন কী কোর্স চালু করা যায়, তা নিয়ে ভাবছিলেন মুকলেছ সাহেব। ঠিক তখনই টিভির হেডলাইনে চোখ আটকে গেল—
‘মেয়েদের জন্য রাজধানীতে চালু হচ্ছে পিংক বাস। ড্রাইভার থেকে শুরু করে বাসের কর্মীরা সবাই নারী।’
মুকলেছ সাহেব টিভির দিকে তাকিয়ে রইলেন। তারপর ধীরে ধীরে তার চোখ চকচক করে উঠল।
বাস মানেই ভিড়। ভিড় মানেই সুযোগ। আর এই বাসের বিশেষত্ব—যাত্রীদের সবাই নারী।
মুকলেছ সাহেবের মাথায় তখন হিসাবের খাতা খুলে গেছে। নতুন বাস, নতুন বাজার। আর বাজারে প্রতিযোগী নেই!
ব্যবসায়ীর কাছে এর চেয়ে আনন্দের খবর আর কী হতে পারে? তিনি খাতা টেনে নিয়ে কয়েকটা হিসাব করলেন। তারপর মুচকি হেসে বললেন, চাহিদা তৈরি হয়েছে, বাজার তৈরি হয়েছে। শুধু লোক তৈরি করা বাকি।
কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে নিজের কথায় নিজেই চমকে উঠলেন।
—লোক তৈরি করব আমিই!
ব্যস! নতুন কোর্সের আইডিয়া পাকা।
এবার শুধু বিজ্ঞাপন।
মুকলেছ সাহেব ল্যাপটপ খুললেন। অনেক ভেবে-চিন্তে শেষ পর্যন্ত ব্যবসার পুরো পরিকল্পনাটা এক লাইনে নামিয়ে আনলেন।
তারপর ফেসবুকে পোস্ট করলেন—
‘পকেটমারি শিখতে আগ্রহীদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ—শুধুমাত্র নারীদের জন্য। আসন সীমিত!’


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









