মানুষকে খুঁজছ কোথায়? মন্দিরে, মসজিদে, শাস্ত্রে, তীর্থে? একটু থামো। যে মানুষকে খুঁজছ, সে কি তোমার পাশেই নেই? তুমি কি কখনো তার দিকে সত্যিকারের চোখে তাকিয়েছ? নাকি তার নাম, ধর্ম, জাত, বংশ আর পরিচয়ের দিকে তাকিয়েই ফিরে এসেছ?
মানুষের বড় সমস্যা এই নয় যে সে নিজেকে চেনে না। সমস্যা হলো, সে নিজেকে চেনে বলে মনে করে। সে জানে তার নাম কী, কোন পরিবারে তার জন্ম, কোন ধর্মে তার বিশ্বাস, কোন সমাজে তার স্থান। এই জানাটুকু নিয়েই সে নিশ্চিন্ত। অথচ এসব পরিচয়ের নিচে যে মানুষটি আছে, তার সঙ্গে তার কোনো পরিচয়ই হয়নি। জন্মের সময় তুমি কি নিজের নাম নিয়ে এসেছিলে? তোমার ধর্ম কি তোমার সঙ্গে জন্মেছিল? জাতের কোনো চিহ্ন কি তোমার শরীরে লেখা ছিল? অন্যরা তোমাকে এসব পরিচয় দিয়েছে। তুমি ধীরে ধীরে সেগুলো গ্রহণ করেছ। তারপর একদিন ভুলে গেছ, তুমি পরিচয়গুলো নও; তুমি সেই মানুষ, যার ওপর পরিচয়গুলো চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।
লালন এই ভুলে যাওয়ার জায়গাতেই প্রশ্ন তোলেন—
‘সব লোকে কয় লালন কী জাত সংসারে
লালন কয় জাতের কী রূপ
দেখলাম না এই নজরে।’
কী অসাধারণ প্রশ্ন! লালন কোনো তত্ত্বের বই খুলে বসেননি। তিনি শুধু দেখতে চেয়েছেন। মানুষকে দেখেছেন, তার শরীরকে দেখেছেন, জন্ম ও মৃত্যুকে দেখেছেন। তারপর প্রশ্ন করেছেন, জাত কোথায়? তার রূপ কী? চোখে যদি তাকে দেখা না যায়, তবে তার জন্য এত অহংকার কেন? তার জন্য এত ঘৃণা কেন? একবার ভাবো, তুমি যাকে ঘৃণা করছ, তার শরীরের ভেতরেও তোমার মতোই রক্ত প্রবাহিত হচ্ছে। তারও ক্ষুধা লাগে, তারও ঘুম পায়, সে-ও ভালোবাসতে চায়, সে-ও হারানোর ভয়ে কাঁপে। তার চোখেও জল আসে। তাহলে তোমাদের মধ্যে দেয়ালটি কোথায়?
দেয়ালটি শরীরে নেই। দেয়ালটি মনে। আর মনের দেয়াল সবচেয়ে বিপজ্জনক। পাথরের দেয়াল ভাঙা যায়, কিন্তু মনের দেয়ালকে মানুষ নিজের ঘর বলে ভালোবাসে। সে তার ভেতরে নিরাপদ বোধ করে। বাইরে বেরোতে ভয় পায়। কারণ, বাইরে গেলে তাকে নতুন করে দেখতে হবে, নতুন করে ভাবতে হবে। এত দিন যে বিশ্বাসগুলোকে সত্য বলে জেনেছে, সেগুলোর সামনে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন করতে হবে। মানুষ প্রশ্ন করতে ভয় পায়। তাই সে পরিচয় আঁকড়ে ধরে। পরিচয় তাকে বলে দেয়, কে তার আপন, কে পর; কাকে ভালোবাসতে হবে, কাকে ঘৃণা করতে হবে। তখন তাকে আর নিজের চোখে দেখতে হয় না। অন্যের চোখ ধার করে সে পৃথিবীকে দেখে। নিজের বিবেকের বদলে সমাজের রায়কে সত্য বলে মেনে নেয়।
লালনের সাধনা শুরু হয় এই ঘুম ভাঙানোর মধ্য দিয়ে।
‘রূপ বললে যদি হয় রূপসাধন
তবে কি আর ভয় ছিল মন।’
সাধনা মানে কী? চোখ বন্ধ করে বসে থাকা? নির্জনে চলে যাওয়া? নাকি কোনো বিশেষ পোশাক পরে নিজেকে অন্যদের থেকে আলাদা করে ফেলা? এসবের কোনোটিই নিজে থেকে সাধনা নয়। মানুষ যদি নিজের অহংকারকে সঙ্গে নিয়ে নির্জনে যায়, তবে নির্জনেও সে একা নয়; তার অহংকার তার সঙ্গে আছে। যদি নিজের ঘৃণাকে সঙ্গে নিয়ে ধ্যান করে, তবে তার ধ্যানের ভেতরেও ঘৃণা রয়ে যায়। সাধনা হলো নিজের অচেতন জীবনকে সচেতন করে তোলা। যে বিশ্বাসকে এত দিন প্রশ্ন না করে মেনে এসেছ, তাকে প্রশ্ন করা। যে মানুষটিকে তার পরিচয়ের কারণে দূরে সরিয়ে রেখেছ, তার দিকে আবার তাকানো। যে অহংকারকে নিজের শক্তি বলে ভেবেছ, তার ভেতরে লুকিয়ে থাকা ভয়টিকে চিনতে পারা।
লালন তাই মানুষকে বাইরে থেকে কোনো উত্তর এনে দেন না। তিনি মানুষকে নিজের দিকে ফিরিয়ে দেন। কিন্তু নিজের দিকে ফেরা মানে নিজের মধ্যে আটকে থাকা নয়। বরং নিজের ভেতর দিয়ে এমন এক দরজা খুঁজে পাওয়া, যে দরজা দিয়ে অন্য মানুষের কাছেও পৌঁছানো যায়।
লালন গেয়েছেন—
‘খাঁচার ভিতর অচিন পাখি
কেমনে আসে যায়।’
তোমার শরীর একটি খাঁচা, কিন্তু শুধু শরীরই নয়। তোমার বিশ্বাসও খাঁচা হতে পারে। তোমার স্মৃতি, তোমার ভয়, তোমার অহংকার—সবই তোমাকে বন্দী করতে পারে। তুমি ভাবছ, তুমি স্বাধীন; অথচ প্রতিদিন একই রকম চিন্তা করছ, একই রকম ঘৃণা করছ, একই রকম ভয় পাচ্ছ। তোমার সিদ্ধান্তগুলোও হয়তো তোমার নিজের নয়। বহুদিনের অভ্যাস তোমার হয়ে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। অচিন পাখিকে খুঁজতে হলে খাঁচার দিকে তাকিয়ে থাকলেই হবে না। খাঁচাটি কী দিয়ে তৈরি, তা বুঝতে হবে। কোন ভয় তোমাকে বেঁধে রেখেছে? কোন বিশ্বাস তোমাকে অন্যের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে? কোন অহংকার তোমাকে নিজের ভুল স্বীকার করতে বাধা দেয়?
এই প্রশ্নগুলোর মুখোমুখি হওয়াই সাধনা।
‘চাতক পাখির এমনি ধারা
অন্য বারি খায় না তারা।
প্রান থাকিতে জ্যান্তে মরা
ঐ রূপ ডালে বসে ডাক’
তুমি যখন নিজের ভেতরের অন্ধকার দেখতে শেখো, তখন অন্যের অন্ধকারকে একটু অন্যভাবে বুঝতে পারো। তুমি আবিষ্কার করো, তোমার মধ্যেও হিংসা আছে, ভয় আছে, স্বার্থপরতা আছে। তখন অন্যের দুর্বলতা দেখে নিজেকে শ্রেষ্ঠ মনে করা কঠিন হয়ে ওঠে। তুমি বুঝতে পারো, মানুষকে বিচার করা সহজ, কিন্তু মানুষকে বোঝা কঠিন।
ভালোবাসাও ঠিক এখানেই শুরু হয়।
ভালোবাসা মানে অন্য মানুষটিকে নিজের মতো করে গড়ে তোলা নয়। তাকে নিজের বিশ্বাসে বিশ্বাসী করা নয়। তাকে নিজের ইচ্ছার অধীন করা নয়। ভালোবাসা মানে তাকে তার স্বতন্ত্র অস্তিত্বে গ্রহণ করা। সে তোমার মতো হবে না, তোমার সব কথা মানবে না, তোমার সব বিশ্বাসের সঙ্গে একমত হবে না। তবু সে মানুষ। তার বেঁচে থাকার অধিকার আছে, তার নিজস্ব পথ বেছে নেওয়ার অধিকার আছে। তুমি যদি বলো, তুমি মানুষকে ভালোবাসো, কিন্তু তোমার মতো নয় বলে কাউকে ঘৃণা করো, তবে তোমার ভালোবাসা এখনো শর্তের মধ্যে বন্দী। তুমি মানুষকে ভালোবাসছ না; ভালোবাসছ তার মধ্যে নিজের প্রতিচ্ছবিকে। লালনের মনের মানুষকে খোঁজার সাধনা এই প্রতিচ্ছবি ভেঙে দেয়। মনের মানুষকে কোনো নির্দিষ্ট মুখে আটকে রাখা যায় না। তাকে খুঁজতে গিয়ে তুমি নিজের ভেতরের অচেনা সত্তার মুখোমুখি হও। আর সেই সত্তাকে চিনতে শুরু করলে অন্য মানুষের মুখও বদলে যায়। যে মানুষকে এত দিন শুধু একটি ধর্মের প্রতিনিধি, একটি জাতের সদস্য কিংবা একটি সামাজিক পরিচয় হিসেবে দেখেছ, তাকে তখন আলাদা করে মানুষ হিসেবে দেখতে শেখো।
‘কই হল মোর মাছ ধরা।
চিরদিন ধাপ ঠেলিয়ে
হলাম আমি বলসারা।’
নিজের ভেতরে মানুষকে খুঁজে পাওয়া মানে বাইরের পৃথিবীর দুঃখ থেকে চোখ ফিরিয়ে নেওয়া নয়। কেউ ক্ষুধার্ত, কেউ অপমানিত, কেউ বঞ্চিত—এসব বাস্তবতা থেকে মুখ ফিরিয়ে রেখে আত্মার মুক্তির কথা বলা আত্মপ্রবঞ্চনা। তুমি যদি ধ্যানের মধ্যে শান্তি খুঁজে পাও, কিন্তু পাশের মানুষের কান্না তোমাকে স্পর্শ না করে, তবে সেই শান্তির গভীরতা নিয়ে প্রশ্ন করার সময় এসেছে। সাধনা জীবনের বাইরে কোথাও ঘটে না। তুমি কীভাবে কথা বলো, কীভাবে অন্যকে বিচার করো, দুর্বল মানুষের সঙ্গে কেমন ব্যবহার করো, নিজের ভুলের মুখোমুখি হতে পারো কি না—এসবের মধ্যেই তোমার সাধনার পরিচয় প্রকাশ পায়। মানুষের মধ্যে পার্থক্য থাকবে। কারও ভাষা এক রকম, কারও ভাষা অন্য রকম। কারও বিশ্বাস তোমার বিশ্বাসের সঙ্গে মিলবে, কারও মিলবে না। কারও জীবন তোমার কাছে পরিচিত, কারও জীবন অচেনা। সমস্যা পার্থক্যে নয়। সমস্যা তখনই, যখন তুমি পার্থক্যকে শ্রেষ্ঠত্বের মাপকাঠি বানাও। যখন ভাবো, তোমার পথই একমাত্র পথ, তোমার বিশ্বাসই একমাত্র সত্য, তোমার পরিচয়ই অন্যদের চেয়ে বড়।
‘মানুষ মানুষ সবাই বলে।
আছে কোন মানুষের বসত কোন দলে।’
লালনের প্রশ্ন এই অহংকারের ভিত কাঁপিয়ে দেয়। তিনি যেন বলেন, আগে মানুষকে দেখো। তারপর তার পরিচয় নিয়ে কথা বলো। আর মানুষকে দেখতে গেলে তোমার চোখ থেকে পরিচয়ের পর্দা সরাতে হবে। এই কাজ সহজ নয়। কারণ, পরিচয় শুধু তোমাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে না; তোমাকে একটি আশ্রয়ও দেয়। তুমি একটি গোষ্ঠীর অংশ, একটি ঐতিহ্যের উত্তরাধিকারী—এই বোধ তোমাকে নিরাপত্তা দেয়। কিন্তু আশ্রয় যখন কারাগার হয়ে ওঠে, তখন তা থেকে বেরিয়ে আসতে হয়। নিজের বিশ্বাসকে ভালোবাসতে পারো, কিন্তু সেই ভালোবাসার জন্য অন্যকে ঘৃণা করতে হবে কেন? নিজের সংস্কৃতিকে আপন মনে করতে পারো, কিন্তু অন্যের সংস্কৃতিকে ছোট করতে হবে কেন?
যে মানুষ নিজের বিশ্বাসকে প্রশ্ন করতে পারে না, সে বিশ্বাসের মালিক নয়; বিশ্বাসই তার মালিক। যে নিজের পরিচয় ছাড়া নিজেকে কল্পনা করতে পারে না, সে পরিচয়ের সীমা অতিক্রম করে মানুষকে দেখতে পারবে কীভাবে? লালনের পথ সেই সীমা অতিক্রম করার পথ। এই পথের জন্য নিজের ধর্ম ত্যাগ করতে হবে, এমন নয়। নিজের ভাষা ভুলে যেতে হবে, তাও নয়। বরং নিজের বিশ্বাস ও পরিচয়ের মধ্যে থেকেও বুঝতে হবে, সেগুলো তোমার সমগ্র অস্তিত্ব নয়। তুমি কোনো একটি নামের চেয়ে বড়, কোনো একটি পরিচয়ের চেয়ে বিস্তৃত। অন্য মানুষও তেমনই।
‘এক ফুলে চার রঙ ধরেছে।
সে ফুলে ভাব নগরে
কি শোভা করেছে।’
এই উপলব্ধি কোনো একদিন হঠাৎ এসে সব সমস্যার সমাধান করে দেবে না। আজ তুমি নিজের অহংকার চিনলে, কাল আবার তা ফিরে আসতে পারে। আজ কাউকে বুঝতে পারলে, কাল অন্য কাউকে দেখে আবার পুরোনো বিচার জেগে উঠতে পারে। তাই সাধনা কোনো চূড়ান্ত সনদ নয়। এটি প্রতিদিন জেগে ওঠার অভ্যাস। প্রতিদিন নিজের দিকে তাকানো, নিজের ভুল দেখতে শেখা, অন্যকে নতুন করে আবিষ্কার করা। লালনের গান আমাদের এমন কোনো উত্তর দেয় না, যা মুখস্থ করে নিশ্চিন্তে বসে থাকা যায়। তার গান বরং আমাদের অস্বস্তিতে ফেলে। আমরা নিজেদের যতটা জানি বলে মনে করি, তার চেয়ে অনেক কম জানি। আমরা অন্যকে যতটা বিচার করি, তাকে ততটা বুঝি না। আমরা যে পরিচয় নিয়ে গর্ব করি, তার অনেকটাই আমাদের নিজেদের পছন্দে তৈরি নয়। অথচ সেই পরিচয়ের জন্যই আমরা অন্য মানুষকে দূরে সরিয়ে দিই।
‘ভবরঙ্গে থাকি মজে
ভাব দাঁড়ায় না হৃদয় মাঝে।’
তাহলে একবার থামো। নিজেকে জিজ্ঞাসা করো— আমি কাকে ঘৃণা করি, এবং কেন? আমার ঘৃণা কি সত্যিই আমার নিজের উপলব্ধি থেকে জন্মেছে, নাকি অন্যের কাছ থেকে শেখা? যে মানুষটিকে আমি শত্রু মনে করি, তার সঙ্গে আমার মিলগুলো কি কখনো দেখেছি? নাকি অমিলগুলোকে বড় করে দেখতেই শিখেছি? এই প্রশ্নগুলো তোমাকে কোনো নতুন মতবাদে পৌঁছে দেওয়ার জন্য নয়। এগুলো তোমাকে নিজের চোখ ফিরে পেতে সাহায্য করবে। কারণ, মানুষকে খুঁজে পাওয়ার পথ বাইরে থেকে শুরু হলেও শেষ পর্যন্ত নিজের ভেতর দিয়েই যায়। কিন্তু সেই পথের শেষ প্রান্তে তুমি শুধু নিজেকেই পাবে না। তুমি অন্য মানুষের কাছেও পৌঁছে যাবে। নিজের দুঃখকে বুঝতে বুঝতে অন্যের দুঃখ বুঝবে। নিজের স্বাধীনতার মূল্য বুঝতে বুঝতে অন্যের স্বাধীনতার মর্যাদা দেবে। নিজের মধ্যে যে অচেনা মানুষকে খুঁজছ, তারই আভাস পাবে অন্য মানুষের চোখে।
‘চিরদিন জল ছেঁচে মোর
জল ছাড়ে না এ ভাঙ্গা নায়।
এক মালা জল ছেঁচতে গেলে
তিন মালা যোগায় তেতালায়।’
লালনের সাধনা এইখানেই জীবন্ত হয়ে ওঠে। মানুষকে খোঁজা আর মানুষকে ভালোবাসা আলাদা দুটি কাজ নয়। যে সত্যিই মানুষকে খুঁজতে শুরু করে, সে ধীরে ধীরে মানুষের প্রতি তার আচরণ বদলাতে বাধ্য হয়। আর যে অন্য মানুষকে অবজ্ঞা করে, তার নিজের ভেতরের মানুষটিকেও এখনো চিনে ওঠা হয়নি।
অচিন পাখি কোথায় থাকে, কীভাবে আসে যায়—হয়তো এই রহস্যের শেষ উত্তর আমাদের জানা হবে না। কিন্তু তাকে খুঁজতে গিয়ে যদি আমরা নিজের মনের খাঁচাটি দেখতে পাই, যদি বুঝতে পারি কত ভয়, কত অহংকার, কত ধার করা বিশ্বাস আমাদের বন্দী করে রেখেছে, তবে অনুসন্ধান বৃথা যায় না।
‘কি সন্ধানে যাই সেখানে
মনের মানুষ যেখানে।
আঁধার ঘরে জ্বলছে বাতি
দিবা রাতি নাই সেখানে।’
তাই মানুষকে খুঁজতে চাইলে প্রথমে নিজের পরিচয়ের দেয়ালের সামনে দাঁড়াও। দেখো, দেয়ালটি কী দিয়ে তৈরি। তারপর একটি করে ইট সরাও। অন্যকে ছোট করার ইট, ঘৃণার ইট, শ্রেষ্ঠত্বের ইট, অন্ধ আনুগত্যের ইট। হয়তো একদিন দেখবে, দেয়ালের ওপারে কোনো অপরিচিত শত্রু দাঁড়িয়ে নেই। দাঁড়িয়ে আছে আরেকজন মানুষ—তোমার মতোই অসম্পূর্ণ, তোমার মতোই ভীত, তোমার মতোই ভালোবাসা ও মুক্তির প্রত্যাশায় বেঁচে থাকা একজন মানুষ। সেদিন তুমি শুধু অন্য কাউকে চিনবে না। নিজেকেও নতুন করে চিনবে।
আর তখন লালনের সাধনা কোনো গানের কথা হয়ে থাকবে না। তা জীবন হয়ে উঠবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









