গানের তালে তালে লেজ নাড়তে নাড়তে মঞ্চে আসে বিশাল এক বাঘ পুতুল। সামনে বসা শিশুরা একসঙ্গে চিৎকার করে ওঠে আনন্দে। নাচতে নাচতে বাঘ নেমে আসে শিশুদের মাঝে। হাত বাড়িয়ে বাঘকে ছুঁতে চায় তারা। হাসি, হাততালি আর উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে চারপাশ। অনেক শিশু এই বাঘ মামার সঙ্গে ছবি তোলেন। খুশিতে আত্মহারা মাইশাও তুলল ছবি।
গতকাল শুক্রবার ছুটির দিনের সকালে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে অমর একুশে বইমেলার চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে মা-বাবার সঙ্গে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের শিশু চত্বরে এসেছিল সে। সেখানে কাকতাড়ুয়া পাপেট থিয়েটার পরিবেশন করে পুতুল নাচ। সঙ্গে ছিল পাপেটদের নানারকম আনন্দ আয়োজন।
বেলা ১২টার দিকে শিশুচত্বরে দেখা যায়, শতাধিক শিশু ও অভিভাবক পাপেট শো উপভোগ করছেন। মঞ্চে হাজির দুই পুতুল বন্ধু অপু ও দিপু। গল্পের ফাঁকে তারা দেয় নানা শিক্ষণীয় বার্তা। অপু–দিপু বিদায় নিতেই বেজে ওঠে পরিচিত সুর—‘বুলবুল পাখি ময়না টিয়ে…’। বাবার সঙ্গে আজিমপুর থেকে মেলায় এসেছিল প্রসন্ন পারিজাত। সে মেলায় এসে ‘দারুণ খুশি’ বলে জানাল। এ আয়োজনে দুই সন্তানকে নিয়ে মোহাম্মদপুর থেকে এসেছিলেন শামীম হাসান।
তিনি বলেন, পাপেট শো দেখে তাঁর বাচ্চারা খুব আনন্দ পেয়েছে। তবে খোলা জায়গায় রোদ অনেক বেশি ছিল বলে অভিযোগ তাঁর।
এবারের বইমেলার মূল প্রতিপাদ্য- ‘বহুমাত্রিক বাংলাদেশ’। বইমেলা শুরু হয়েছে ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে, যা চলবে আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত। সাধারণত প্রতি বছর ১ ফেব্রুয়ারি মেলা শুরু হলেও এ বছর নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে নির্ধারিত সময়ের পর শুরু হয়েছে আয়োজন। এর আগে করোনাভাইরাস মহামারির কারণে ২০২১ ও ২০২২ সালে ফেব্রুয়ারিতে মেলা আয়োজন করতে পারেনি বাংলা একাডেমি। রমজান মাস ও আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ব্যবসায়িক ক্ষতির শঙ্কায় শুরুতে মেলায় অংশগ্রহণ নিয়ে দ্বিধায় ছিলেন প্রকাশকেরা।
মেলার সময়সীমা এ বছর মাত্র ১৮ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। তাছাড়া নানা সমীকরণ ও প্রস্তুতির কাঁটাছেঁড়ায় এখনো ৪০ শতাংশের বেশি স্টলের কাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি। তবে প্রথম দিনের বেচাকেনায় আশাবাদী প্রকাশকরা। শেষ মুহূর্তে স্টলভাড়া শতভাগ মওকুফসহ তিন দফা দাবি মেনে নেয়ায় প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানগুলো মেলায় অংশগ্রহণ করছে।
মেলার সময়সূচি অনুযায়ী, ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন বেলা ২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা চলবে। আর সাপ্তাহিক ছুটির দিন বেলা ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। রাত সাড়ে ৮টার পর নতুন করে কেউ মেলা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে পারবেন না।
এবারের বইমেলায় অংশগ্রহণ করছে ৫৪৯টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ৮১টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৪৬৮টি প্রকাশনা সংস্থা স্টল দিয়েছে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের উন্মুক্ত মঞ্চসংলগ্ন গাছতলায় লিটল ম্যাগাজিন চত্বরের আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে ৮৭টি লিটল ম্যাগাজিনকে স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
ফাইয়াজ রাব্বী নামক এক খুদে পাঠক দৈনিক এদিনকে জানায়, 'বাবার সাথে বইমেলায় এসে খুব ভালো লাগছে। ছড়ার বই পড়তে ভালো লাগে বলে দুটি ছড়ার বই কিনেছি। স্কুল বন্ধ থাকায় আবারও আসতে চাই বই মেলায়।'


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









