আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের বিশেষ রহমতে আজ মাগফিরাতের নবম দিন আমরা অতিবাহিত করছি। দেখতে দেখতে অর্ধেকের চেয়ে বেশি রোজা ইতিমধ্যে কেটেগেছে। জানি না, এদিনগুলোতে কতটুকু আল্লাহপাকের সন্তুষ্টি লাভের কাজ করেছি। যা-ই করেছি বা যেভাবেই কাটিয়েছি, সামনের দিনগুলো যেন আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারি সে জন্য অনেক বেশি নফল ইবাদতের প্রয়োজন রয়েছে।
যদিও আমরা সবাই জানি, পবিত্র এ মাস অত্যন্ত বরকতপূর্ণ মাস। তাই আমাদের সবার উচিত, বিশুদ্ধচিত্তে আল্লাহর ইবাদত করা, সাধারণভাবে আমরা দেখতে পাই এ মাসে সবাই কম বেশি ইবাদত করেই থাকে। তবে এমাসে মানুষ পূর্বের তুলনায় অনেক বেশি আল্লাহর আদেশ মেনে চলার প্রতি চেষ্টা করে। সবাই বিভিন্ন ধরনের পূণ্যকর্ম করতে আগ্রহ রাখে আর সবাই চায় সব ধরণের মন্দকাজকে পরিত্যাগ করতে।
আল্লাহতায়ালা রমজানের রোজা আমাদের জন্য এ কারনেই ফরজ করেছেন যাতে আল্লাহতায়ালার সমস্ত আদেশ নিষেধ মেনে চলে যেন আমরা তাকওয়া অবলম্বন করতে পারি। আল্লাহতায়ালার নৈকট্য লাভ করতে পারি। আল্লাহ রাব্বুল আলামিনকে লাভ করার জন্য রোজা একটি বড় মাধ্যম। পবিত্র কোরআনে বারবার তাকওয়া অর্জন করার কথা বলা হয়েছে, এই তাকওয়া আমরা কীভাবে অর্জন করবো? আমাদেরকে জানতে হবে তাকওয়া কাকে বলে আর তাকওয়া কি জিনিস? তাকওয়া অর্জনের মূল কথা হলো, আমরা যেন সকল প্রকার পাপ থেকে বিরত থাকি, পাপ বর্জন করতে চেষ্টা করি। আর এই চেষ্টা এমন এভাবে করতে হবে যেভাবে কেউ ঢালের আড়ালে এসে নিজেকে নিরাপদ করতে চেষ্টা করে।
বড়ো কোন বিপদ থেকে আমরা যেমন নিজকে বাঁচাবার জন্য অনেক চেষ্টা করি। তেমন ভাবে আল্লাহ বলেছেন, রোজা রাখ, যেভাবে রোজা রাখার নির্দেশ রয়েছে। আর আমরা যদি সেভাবে রোজা রাখি, তবেই তাকওয়ার পথে এগিয়ে গিয়ে উন্নতি লাভ করতে পারবো। নতুবা হাদিসে আছে, তোমাদেরকে অভুক্ত রাখার কোন ইচ্ছা আল্লাহতায়ালার নেই।
আল্লাহ তো বলেছেন, তোমরা যে সমস্ত ভুল-ভ্রান্তি করেছ, তার কুফল থেকে নিজেদেরকে রক্ষা করার জন্য আমি তোমাদের জন্য পথ দেখিয়ে দিয়েছি। যেন তোমরা বিশুদ্ধচিত্তে তওবা করে পুণরায় আমার কাছে আস। তোমরা রমজানের এ পবিত্র মাসে যথাযতভাবে রোজা রাখ, আমার খাতিরে তোমরা হালাল বস্তু, হালাল জিনিস গ্রহণ করা থেকে বিরত থাক- তোমাদের এ প্রচেষ্টার ফলে আমি তোমাদের প্রতি রহমতের দৃষ্টিপাত করব এবং শয়তানকে বেঁধে রাখব। তোমরা যেন এ ভয়ের কারণে রোজা পালন কর, রোজার আড়ালে নিজেকে রেখে তাকওয়া অবলম্বন করে নিজেদেরকে নিরাপদ কর, যেন শয়তান তোমাদের ক্ষতি সাধন করতে না পারে।
এটাই হলো তাকওয়া এবং ঢালÑএর আড়ালে গিয়ে শয়তানের আক্রমণ থেকে এবং পাপকর্ম করা থেকে নিজকে বিরত রাখার চেষ্টা আর রোজা রাখার ফলে তোমরা নিরাপদ হতে পার। এমন এক সংগ্রাম করে আমরা আল্লাহর নিরাপদ আশ্রয়ে এসে যাব। এরপর এ আশ্রয়স্থল এই তাকওয়াকে সৎকর্ম দ্বারা আল্লাহ্র আদেশ নির্দেশ মেনে চলার মাধ্যমে আরো মজবুত করতে হবে। যারা পূর্বে থেকেই পূণ্যের উপর প্রতিষ্ঠিত, তাদের এই পবিত্র রোজার মাধ্যমে তাকওয়ার মান আরো বৃদ্ধি করে খোদার নৈকট্য লাভ করতে সহজতর হবে।
আমাদের মনে রাখতে হবে রমজান মাসের রোজা কেবল এতটুকুই না যে, নির্দিষ্ট সময় খানা-পিনা থেকে বিরত থাকলেই আমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারবো। বরং তাকওয়া অর্জন করতে হলে প্রকৃত অর্থে রোজাও রাখতে হবে আর বেশি বেশি ইবাদত-বন্দেগীতে রত হতে হবে। সেই সাথে সব ধরনের মন্দ কাজ ছেড়ে দিতে হবে। আর আমরা যদি এই মাসে পূর্বের তুলনায় অনেক বেশি আল্লাহর ইবাদতে মগ্ন হই তবেই না তাকওয়া অর্জিত হবে।
লেখক: ইসলামী গবেষক ও কলামিষ্ট


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









